জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

৪শত বছর আগে এক রাতে নির্মিত নড়াইলের মুন্সিবাড়ি মসজিদ

0


উজ্জ্বল রায়
নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইল সদর উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামে প্রায় ৪শত বছর আগে মোগল শাসনামলে এক রাতে গোয়ালবাথান গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ি মসজিদটি নির্মান করা হয়। মসজিদের ছাদের উপরে ৪পাশে ছোট ছোট ৪টি মিনার এবং মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ রয়েছে। ছোট ছোট ইট আর চুন সুড়কির গাথুনীর মাধ্যমে নির্মান করা হয়েছে এ মসজিদটি।

বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, এলাকায় জন শ্রুতি আছে মোগল শাসনামলে প্রায় ৪শত বছর আগে একদিন এ গ্রামে এসে হঠাৎ করে বসবাস শুরু করেন মুন্সি হবৎউল্লাহ নামের এক ব্যাক্তি। এর কিছুদিন পর এক রাতে ঐ স্থানে এ মসজিদ এবং এর সংলগ্ন একটি পুকুর খনন করেন তিনি। সেই থেকে ঐ গ্রামে আস্তে আস্তে জনবসতি শুরু হয় এবং ঐ স্থানসহ আসপাশ এলাকার মুসলিম সম্প্রদয়ের মানুষেরা ঐ মসজিদটিতে নিয়মিত নামায আদায় করতে থাকেন।

নড়াইল জেলায় ঐ সময় অন্য কোন মসজিদ না থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মুসলিম সম্প্রদয়ের মানুষেরা নড়াইলের প্রথম মসজিদে নামায আদায় করতে আসতেন বলেও জানা গেছে। মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা মুন্সি হবৎউল্লাহর বংশ ধরেরা আজও গোয়ালবাথান গ্রামে বসবাস করেন। তারাও সঠিকভাবে বলতে পারেন না কত সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এ মসজিদটি। তবে মোগল শাসনামলে এবং কমপক্ষে ৪শত বছর আগে এটি তাদের পূর্ব পুরুষ মুন্সি হবৎউল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহি এ মসজিদটি দীর্ঘদি যাবৎ সংস্কার না করার কারণে এক সময় প্রায় ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। নড়াইল জেলার ইতিহাস ঐতিহ্যের বাহক গোয়ালবাথান মুন্সিবাড়ি মসজিদটি রক্ষা করতে নড়াইলের সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ২ বছর আগে ১১ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যায়ে মসজিদটি পূনঃ নির্মান কাজ করেন। বর্তমানে এটি আবারও সাবেক আমলের ন্যায় রূপ পেয়েছে।

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মসজিদ সংলগ্ন বাড়িতে জন্ম গ্রহনকারি মীর্জা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কবে কতোদিন আগে ঐ মসজিদটি নির্মান করা হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। তবে কথিত আছে মুন্সি হবৎউল্লাহ নামের এক ব্যাক্তি কয়েকশ’ বছর আগে গোলবাথানে এসে বসবাস শুরু করেন। সে সময় ঐ এলাকায় কোন মানুষের বসতি ছিলনা। শুধৃ বাগানে ভরাছিল এলাকাটি। মুন্সি হবৎউল্লাহই ঐ গ্রামের প্রথম বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তার বসবাস শুরুর কোন এক রাতে ঐ মসজিদ এবং তার সাথে লাগোয়া একটি পুকুর খনন করা হয় । এছাড়া এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ঐ মসজিদটি।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply