জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

২০১৮ রেকর্ড জয়ের বছর বাংলাদেশের

0

কথায় আছে—‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। কিন্তু সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হাতছাড়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩২ বছরের পথচলায় ম্যাচ জয়ের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সফলতম বছর ছিল ২০১৮ সাল।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—ক্রিকেটের এই তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০১৮ সালে মোট ২১টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। এর আগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয় এসেছিল ২০০৬ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ দল জিতেছিল ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অবশ্য এ বছর নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। এ বছরের ২১ জয় এসেছে ৪৪টি ম্যাচ থেকে। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ১৯ জয় এসেছিল ৩৩টি ম্যাচ থেকে।

জয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলতে হলেও চলতি বছরটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে চলার স্মারক হয়েই থাকবে। এ বছরের আগে দুবার পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৭টি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল । কিন্তু ওই দুই বছরই জয়ের সংখ্যা ছিল অনেক কম। ২০০৮ সালে ৩৭ ম্যাচে জয় ছিল কেবল পাঁচটি, আর ২০১০ সালে ৩৭ ম্যাচে মাত্র নয়টি।

১৯৮৬ এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুর দিকে অনেক বছর ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলত কালেভদ্রে। ফলে প্রথম ১২ বছরে বাংলাদেশ দল কেবল ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর ম্যাচ খেলার সংখ্যা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পর এই সংখ্যা আরো বাড়ে। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো ২০টির বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ওই বছরের পর শুধু ২০১৩ সালে ২০টির চেয়ে কম (১৯টি) ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ খেলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় দল এ বছরই প্রথম ৪০টির অধিক ম্যাচ খেলল।

যথারীতি এ বছরও সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর কাটিয়ে এবার ২০ ওয়ানডের ১৩টিই জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে খাদের কিনারা থেকে কামব্যাক করে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ দল। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ বলের রোমাঞ্চে তিন উইকেটে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ লড়াকু মানসিকতার ক্রিকেট খেলে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়ায় দল।

টেস্টে এ বছর জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। এর আগে ২০১৪ সালে তিনটি টেস্ট জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। সেবার খেলতে হয়েছিল সাতটি টেস্ট ম্যাচ, এ বছর আটটি।

টি-টোয়েন্টিতে এ বছরটি ছিল ভালো-মন্দ মিশিয়ে। গত মার্চে  শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ ফাইনালে হেরে যায় শেষ বলে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার হতাশাও এসেছে এবারই। অবশ্য জুলাই-আগস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় এসেছিল তাদের মাঠেই। আর বছরের শেষে নিজেদের মাঠে শেষ ম্যাচে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ বছর ১৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলের জয় মাত্র পাঁচটি।

শুধু জয় বা ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও সফলতম বছরগুলোর একটি কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ২০০৯ সালে ২৫ ম্যাচের ১৬টিতে জয় ও নয়টিতে হেরে জয়-পরাজয়ের হার ছিল ১.৭৭। ২০১৫ সালে ২৮ ম্যাচে ১৫ জয়, নয়টি হার ও চারটি ড্রয়ে এই হার ছিল ১.৬৬ আর ২০০৬ সালে ৩৩ ম্যাচে ১৯ জয় ও ১৪ পরাজয়ে এই হার ছিল ১.৩৫। তার পরই এই বছরের সাফল্য, জয়-পরাজয়ের হার এবার ০.৯৫।

প্রথমবারের মতো এক পঞ্জিকাবর্ষে ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাওয়া গেছে এ বছর। ২০১৮ সাল তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি মাইলফলক হয়েই থাকবে।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply