জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

২০১৮ মেসি-রোনালদোর হতাশার বছর

0

বিশ্বকাপ, উয়েফা বর্ষসেরা, ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর—এ বছরে চারটি ব্যক্তিগত বড় পুরস্কারের তালিকায় ছিলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। অবাক করার মতো হলেও সত্য, হতাশা দিয়েই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুই তারকার বছর শেষ হতে চলছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক, মেসি-রোনালদোকে একেবারেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রুপ পর্বে স্পেনের সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্র দিয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল, ম্যাচটিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকের কথা দীর্ঘদিন ফুটবলবিশ্ব মনে রাখবে। শুরুটা যেভাবে করেছিলেন রোনালদো, শেষটা সেভাবে ভালো হয়নি। তাঁর দলও বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়।

একই অবস্থা হয়েছে মেসির আর্জেন্টিনারও। ফ্রান্সের কাছে হেরে তারাও শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়ে। বিশ্বকাপে রোনালদো কিছুটা উজ্জ্বলতা ছাড়ালেও একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি। খুবই হতাশ করেছেন তিনি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

অবশ্য বিশ্বকাপের আগে দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে সাফল্য পেয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে মেসি স্প্যানিশ লিগ ও কাপ শিরোপা জয় করেন। অন্যদিকে জুভেন্টাসে পাড়ি জমানোর আগে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এনে দেন রোনালদো।

তাঁদের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে আলো ছড়িয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। তাই তিনি জিতে নিয়েছেন ব্যালন ডি’অরের পাশাপাশি ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার। তিনি অনেকটা একাই ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দেন। পাশাপাশি রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতাতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। রাশিয়া বিশ্বকাপেও তিনি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জয় করেছিলেন।

এর পাশাপাশি আরো তরুণ তুর্কির দেখা পেয়েছে ফুটবলবিশ্ব। বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কল্যাণে রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স।

শেষ ষোলোতে মেসির আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে ফ্রান্স শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই যায়নি, শেষ পর্যন্ত শিরোপাটাও ঘরে তুলেছে। বিশ্বকাপে প্রায় সব ম্যাচে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স বিশ্বকে এক নতুন তারকা উপহার দিয়েছে।

১৯৫৮ সালে পেলের পর বিশ্বকাপে এক ম্যাচে দুই গোল করা প্রথম টিনএজার খেলোয়াড় হিসেবে কৃতিত্ব গড়েন ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে। ফাইনালে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে ফ্রান্স। মস্কোর ফাইনালে গোল করে পেলের পর এমবাপ্পে টিনএজার হিসেবে আরেকটি রেকর্ড গড়েন।

সব মিলিয়ে অনেক স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ ছিল আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম উপভোগ্য একটি টুর্নামেন্ট। ১৯৬৬ সালের পর এবারের বিশ্বকাপে সমর্থকরা দেখেছে সর্বোচ্চ গোল।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply