জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

‘স্যালুট, পুলিশ কনস্টেবল আফতাব’

0

কক্সবাজারের মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এলাকা। ভিড় ঠেলে সিঁড়ি বেয়ে সবাই উঠছেন পূজা দিতে। কিন্তু সিঁড়ির নিচে অসহায় আকুতি করে যাচ্ছেন এক বৃদ্ধা। খুব করে চাইছেন কোনোভাবে মন্দিরে গিয়ে পূজা দেবেন তিনি। কিন্তু এমন ভিড়ে কার কথা কে শোনে! শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন পুলিশ কনস্টেবল আফতাব। পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে তুলে দিলেন বৃদ্ধাকে।

এই ছবিই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। নেট দুনিয়ার বাসিন্দারা বলছেন, ‘হিংসা-বিদ্বেষ, জাতিভেদ ভুলে আফতাব যা করেছেন তা খুব কঠিন কিছু না হলেও মানবতার জন্য অনন্য উদাহরণ। এমনটা কজন করেন? স্যালুট, আফতাব উদ্দিন।’

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাসও এ খবরে বেশ খুশি। তিনি জানালেন, পুলিশের অনেক বদনাম আছে। কিন্তু এর বাইরেও পুলিশের সদস্যরা অনেক ভালো কাজও করেন। যা সব সময় সামনে আসে না। আফতাব যেটা করেছে সেটা খুবই ভালো। আমাদের থানার আওতাধীন এ মন্দিরটিতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন। আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সহযোগিতা করতে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

কথা হল আফতাব উদ্দিনের সঙ্গেও। বিনয়ী এই পুলিশ কনস্টেবল বললেন, ‘গতকাল বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সম্ভবত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শিব পূজা উপলক্ষে হাজারো মানুষের জমায়েত ছিল আদিনাথ মন্দিরে। ভারত থেকেও অনেকে এসেছিলেন পূজা দিতে। আমরা দুপুরের দিকে ডিউটিতে ছিলাম। এসময় সিঁড়ির নিচে ওই বৃদ্ধা মহিলার আকুতি আমাকে নাড়া দিয়েছিল। আমি উনাকে নিজে তুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিয়ে গেছি। আবার নামিয়েও এনেছি। এটা আসলে কাউকে বলার জন্য করিনি। তবে আপনাদের মাধ্যমে অনেকেই জেনেছে। আমাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে, এটা ভালো লাগছে।’

ধর্মীয় ভেদাভেদে বিশ্বাসী নয় আফতাব উদ্দিন। তার মতে, ‘আমি আমার ধর্ম পালন করি, তারা তাদের। এখানে মানবতাটাই বড় কথা।’

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের ছেলে আফতাব চান কতিপয় পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীকে যেন কখনো দোষারোপ করা না হয়। তিনি ভবিষ্যতেও দেশ ও সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চান।

-বণিক বার্তা

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply