জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

স্কুল ফাঁকি দিতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলাম, তারপর….

0

এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ইলিয়াস হোসাইন। ‘না বলা কথা’, ‘কথা দাও’, ‘মন দিয়ে দেখো’ র মতো শ্রোতাপ্রিয় গান রয়েছে তার ঝুলিতে। সে কতোটা জনপ্রিয় তার প্রমান মেলে তার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজের ফ্যানদের সংখ্যার হিসাবটা দেখলে। ১১ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি ফ্যান রয়েছে তার পেইজে। নিজের আইডিতে ফলোয়ার রয়েছে ১ লাখ ২১ হাজারেরও কিছু বেশি। কন্ঠের দ্বারা শ্রোতাদের মন জয় করাই তার লক্ষ্য। কন্ঠ ৭১’র সাথে ইলিয়াস হোসাইন’র কথা হলো তার কিছু ভালো লাগা এবং অজানা বিষয় নিয়ে। চলুন জেনে নেই অজানা সেই তথ্যগুলো।

কন্ঠ ৭১: আপনার শখ কি?
ইলিয়াস: গাড়ি চালানো এবং নতুন নতুন গাড়ি কেনা।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের খাবার?
ইলিয়াস: ফ্রাইড রাইস। তবে দেশী যে কোন ধরণের খাবারই ভালো লাগে।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের পোশাক সম্পর্কে কিছু বলেন।
ইলিয়াস: শার্ট-জিন্স।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের পারফিউম?
ইলিয়াস: এক্স।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের সানগ্লাস?
ইলিয়াস: রেবেন।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের সঙ্গীত শিল্পী কে?
ইলিয়াস: ব্রায়ান অ্যাডামস এবং শিরোনামহীন’র তুহিন ভাই।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের সঙ্গীত পরিচালক?
ইলিয়াস: এআর রহমান এবং হাবিব ওয়াহিদ ভাই।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের চলচ্চিত্র?
ইলিয়াস: ট্রান্সফরমার।

কন্ঠ ৭১: খেলাধুলা কি পছন্দ করেন? যদি করেন তাহলে পছন্দের খেলা এবং খেলোয়ারের নাম বলেন।
ইলিয়াস: ক্রিকেট। কারণ আমি নিজেও ক্রিকেট খেলতাম। রুবেলের বোলিং আমার খুব ভালো লাগে।

কন্ঠ ৭১: নিজের গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবথেকে পছন্দের কোনটি?
ইলিয়াস: আসলে একজন কন্ঠশিল্পীর কাছে তার গাওয়া সবগানগুলোই সন্তানের মতো। সবার প্রতিই ভালোবাসাটা সমান। তাই আলাদা করে বিশেষ পছন্দ নেই। প্রতিটি গানই আমার কাছে পছন্দের।

কন্ঠ ৭১: কন্ঠশিল্পী হওয়ার পেছনে কে সবথেকে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন?
ইলিয়াস: প্রথমদিকে কেউই তেমন উৎসাহ দেননি। একটা অবস্থায় পৌছানোর পর বাবা সবার আগে এগিয়ে আসেন। তিনি আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সবাই উৎসাহ দিচ্ছেন।

কন্ঠ ৭১:
পছন্দেররংকি?
ইলিয়াস: হোয়াইট পার্ল।

কন্ঠ ৭১: পছন্দের লেখক ও বই?
ইলিয়াস: হুমায়ুন আহমেদ পছন্দের লেখক। তার সৃষ্টি ‘হিমু’ আমার সবথেকে প্রিয়।

কন্ঠ ৭১: ছোট সময়ের স্মৃতি, যা আপনার এখনো মনে পরে?
ইলিয়াস: ছোট সময় থেকেই আমি একটু বাদর ছিলাম। ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়তাম। এবার ঘটনাটা বলি। বছরের শেষমাস। ১৬ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সবাই মার্চ-পিটি প্রাকটিসের জন্য নেমে গেছে মাঠে। তবে একদিন আমি এবং আরো ৪জন বন্ধুকে নিয়ে দেয়াল টপকিয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ফেললাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্যান্টনমেন্ট চেকপোষ্টে ধরা খেয়ে যাই। আমাদেরকে ধরে নিয়ে আসা হয় স্কুল কম্পাউন্ডে। মাইকে এনাউন্স করা হয় আমাদের শাস্তির কথা। শাস্তি! ১ কিলোমিটার আয়তনের মাঠটি ৫ চক্কর দিতেহবে। শুনেইতো অবস্থা খারাপ। কিন্তু সম্পন্ন করলাম সেই শাস্তির দৌড়। ভেবেছিলাম এখানেই শেষ। কিন্তুনা, শেষ হলোনা। আমাদের লাইন ধরে দাড় করানো হলো এক কাতারে। আমি সবার শেষে। টিজি স্যার ছিলেন আমাদের এই শাস্তি দেয়ার দায়িত্বে। সবাইকে জোড়ে জোড়ে ৫টা থাপ্পর দেয়া হলো এবারের শাস্তি। শুরু হলো থাপ্পর দেয়া। আমিতো রীতিমতো ভীত। তাৎক্ষণিক বুদ্ধিবার করলাম। আমার আগে দাড়ানো বন্ধুকে বললাম অভিনয় করতে। একটি থাপ্পর দিলেই যেন সে বেহুশ হয়ে যায়। এইবন্ধুটির নাম এহসান। অনেক মোটা সে। ৫ জনের বাকি ৪ জনের সমান মোটা ও একা। প্রথমে রাজি না হলেও একটু বোঝানোয় সে রাজি হয়ে যায়। যেমন কথা তেমন কাজ। প্রথম থাপ্পর ঠিকমতো গালে লাগার আগেই এহসান বেহুশের অভিনয় শুরু করে দিলো। এক থাপ্পরে পরে গেলো মাটিতে। ব্যাস, সবাই ওকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেলো। আমার আর থাপ্পর খাওয়া হলোনা। এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। এই ঘটনাটা আমার এখনো মনে পরে। বন্ধুদের অনেক মিস করি।

কন্ঠ ৭১: দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন।
ইলিয়াস: বাংলা গানকে ভালোবাসুন, আমাদের পাশে থাকুন, বাংলা গানকে বাঁচিয়ে রাখুন।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply