জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

সোনালী সেন এক উজ্জ্বল নারী নক্ষত্রের নাম

0
সোনালী সেন, একজন নির্ভীক পুলিশ অফিসার, বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সহকারী পুলিশ কমিশনার সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠার সাথে দেশের একজন সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কখনোই কুসুমাস্তীর্ন ছিলো না এই মহীয়সী নারীর পথ চলা। বাধা এসেছে বারংবার,তবে অদম্য মনোবলে জয় করেছেন সব বাধা। সোনালী সেনের বর্নিল জীবনের নানা চমকপ্রদ ও আরো অজানা অধ্যায় উন্মোচন হবে ‘কন্ঠ ৭১’-কে দেয়া এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সাইমুম মোর্শেদমেহেবুবা ইয়াসমিন মেঘলা

ছবি: নাজমুস সাকিব

কন্ঠ ৭১: প্রথমে আপনার শৈশব সম্পর্কে ছোট করে কিছু কথা শুনবো,ছোটবেলায় বেড়ে ওঠা কোথায়? আর পড়ালেখায় বা দুষ্টুমি কোনটিতে বেশি এগিয়ে ছিলেন?

সোনালী সেন: অামার বাবা-মা দুজনই ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, তাদের চাকুরী সূত্রে আমার শৈশবের পুরোটা কেটেছে খুলনায়।মা ছিলেন টি এন্ড টিতে কর্মরত,আর বাবা ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার।খুলনা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি এবং খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করি। প্রকৃতির কোলঘেষা ছায়া সুনিবিড় সরকারি কোয়ার্টারের বেড়ে ওঠা আমার। কর্মজীবি বাবা মায়ের সন্তান,সেই সুবাদে পড়াশোনার চাপ খুব একটা ছিলনা বরং খেলাধূলা,গানবাজনা, বইপড়া ও আড্ডায় এগুলো নিয়েই মেতে থাকতাম সারাক্ষণ।

কন্ঠ ৭১: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে জব করা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা, সে ক্ষেত্রে একজন নারী পুলিশ অফিসার হিসেবে নিজেকে কতটুকু মেলে ধরতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

সোনালী সেন: আমি নিজেকে কখনোই একজন নারী পুলিশ হিসেবে মনে করি না। যখনই আমি নিজেকে নারী পুলিশ অফিসার হিসেবে মনে না করি,তখনই আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করবো না। তবে হ্যা, পুলিশ এর জব টা চ্যালেঞ্জিং, প্রতি মুহূর্তে ভিন্নভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়।অন্যান্য জবে প্রেডিকট করা যায়।তবে, আমাদের জবে প্রেডিকট করাটা কিছুটা মুশকিল।দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে হয়, কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।তবে নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পেরে দিন শেষে এক ধরনের ভাললাগা কাজ করে।

কন্ঠ ৭১: খুলনায় ক্রাইম ও মাদক নিয়ে কতটুকু কাজ করতে পেরেছেন?

সোনালী সেন: আমি প্রায় দুই বছর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে কাজ করছি। সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর দুইটি ক্রাইম জোনে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার।দুইটি ভিন্ন এলাকার অপরাধের ধরণও ভিন্নধর্মী।তবে চেষ্টা করেছি যেকোন ধরনের ক্রাইম ইনসিডেন্টে দ্রুত রেসপন্স করার, এবং সর্বাত্মক আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।মূলত, এই আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।

মাদক নিয়ে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্সে।আমার পুলিশে আসার মূল লক্ষ্যই কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত করা।আমাদের কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামকে কাজে লাগিয়ে খুলনা মেডিকেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সর্বশেষ খানজাহান আলী থানাধীন খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে আমাদের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

ছবি: নাজমুস সাকিব

কন্ঠ ৭১: সম্প্রতি স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আপনার মাদক নির্মূল সংক্রন্ত বেশ কয়েকটি অভিযানের কথা পড়েছি, এ বিষয়ে আপনি কতটুকু সফল বলে মনে করেন?

সোনালী সেন: মাদক নিয়ে আমি কাজ করতে গিয়ে আমি খুলনার স্থানীয় জনগনের ব্যপক সহযোগীতা পেয়েছি।মোবাইল, ফেইসবুক ও বিডি পুলিশ হেল্প লাইনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি।খুলনার তালিকা ভুক্ত মাদক সম্রাট আলম, আজম, রকি, কসাই শরীফ ও মাদক সম্রাজ্ঞী শাবানা সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।আমাদের উপর্যুপরি অভিযানে এলাকা ছাড়া জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত মাদক বিক্রেতারা বিভিন্ন সোর্স মারফত আত্মসমর্পনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তারা যাতে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এ ব্যপারে পুলিশ কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চলছে।

কন্ঠ ৭১: যেহেতু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নারী নেত্রী। আপনিও একজন সফল নারী পুলিশ অফিসার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে কিছু বলুন?

সোনালী সেন: আমাদের দেশের নারীরা কিন্তু অনেক বেশি পটেনশিয়াল আমার দেশের নারীদের কঠোর পরিশ্রম করার মনমানসিকতা আছে, তাদের সামর্থ্য আছে।আমাদের দেশের মেয়েদের ভিতর যদি আত্মবিশ্বাস টা যদি আমরা জাগ্রত করতে পারি এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি তবে মেয়েরা আরো বেশি সফলভাবে দেশ গঠনে বড় ভুমিকা রাখতে পারবে, বলে আমি মনে করি।তাছাড়া নারীরা পিছিয়ে থাকার কোন কারনই নেই, যেখানে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, আমাদের দেশের স্পীকার একজন নারী, সেই খানে আমাদের দেশের মেয়েরা পিছিয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি না।দিন দিন আমাদের দেশের মেয়েরা আরো উন্নতি করবে বলে আমার বিশ্বাস।

কন্ঠ ৭১: আমরা জানি, দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশুর অধিকার আদায় নিয়ে আপনি কাজ করে যাচ্ছেন,নারী ও শিশুর অধিকার আদায়ে ভবিষ্যৎ আপনার পরিকল্পনা কি?

সোনালী সেন: মূলত পুলিশের কার্যক্রম অপরাধ ও অপরাধীদের নিয়ে।তবে নারী ও শিশু অধিকার আদায় নিয়ে কাজ করাটা অামার ভালোলাগা থেকে।আমি আমার সবটুকু সামর্থ্য সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত, এবং অসহায় এই নারী ও শিশুদের পাশে দাড়াতে চাই। আমার পুলিশে যোগদান করার আগে থেকেই নারী সমাজের বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে পীড়া দিত।আমি এর আগেও বেশ কয় একটা চাকরী করেছি, আমি পুলিশে আসার আগে শিক্ষা অফিসার হিসেবে কাজ করেছি, তখন বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ দের সাথে ওঠা বসা করতে হয়েছে। তখন দেখেছি ক্লাস ফোর,ফাইভের মেয়েদের কিভাবে বিয়ে হয়ে যায়, ঠিক তখন থেকেই নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে মনে পোষন করেছি আমি।

কন্ঠ ৭১: আপনার নেতৃত্বে পরিচালিত খুলনার ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারটি নারী ও শিশু নির্যাতনে বহুল প্রশংসিত একটি প্রতিষ্ঠান।এ সংক্রান্তে আপনার উল্লেখ যোগ্য কোন ঘটনা আছে কি?

সোনালী সেন: ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারটি পুলিশের তত্বাবধানে সম্পূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান।আইনের সংঘাতে ও সংস্পর্শে যে সমস্ত নারী ও শিশু সমাজে অবহেলিত বা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার সে সমস্ত নারী ও শিশুদের আমাদের তত্বাবধানে এনে, আইনী সহায়তা নিশ্চিত করাটাই মূলত আমাদের কাজ।সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের কাউন্সিলিং, আবাসন, চিকিৎসা, খাবার এবং তাদের ড্রেস সহ সকল আইনি সহায়তা আমরা দিয়ে থাকি।এ পর্যন্ত আমরা প্রায় তিন শতাধিক নারী ও শিশুকে সহায়তা দিয়েছি।ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়ে কাজ করায় ২০১৬ সালে আমি মাননীয় আই জি পি মহোদয়ের কাছ থেকে সম্মানসূচক এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি।

কন্ঠ ৭১: আপনার এলাকা গত রমজানে পর পর তিনটি লোমহর্ষক খুনের ঘটনা ঘটায় কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘন্টায় আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।এ সংক্রান্তে আপনার মতামত কি?

সোনালী সেন: এধরনের অভিযানতো আমাদের কাজের একটা অংশ মাত্র এটা ছিল একটা টিম ওয়ার্ক। স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমল পালের খুন সহ ডাকাতির ঘটনায় মাননীয় কমিশনার স্যারের নির্দেশে, ডিসি(উত্তর) স্যারের তত্বাবধানে আমরা ২৪ঘন্টার মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আসামী গ্রেফতার সহ আদালতে ১৬৪ করিয়েছি।আমি মনে করি কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে সকল কাজই সুষ্ঠ সমাধান করতে সহজ হয়।তবে মাঠ পর্যায়ে পুলিশিং এর অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।আমাদের প্রযুক্তিগত সাপোর্ট এবং দেশে,বিদেশে আমাদের এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

কন্ঠ ৭১: পুলিশ অফিসার না হলে কি হতেন?

সোনালী সেন: এমনটা কখনো ভেবে দেখিনি,তবে সাংস্কৃতিক কর্মী হতাম হয়তোবা।

কন্ঠ ৭১: আপনার জীবনে এমন কোন ব্যক্তি আছে কি? যার অনুপ্রেরণায় আপনি অনুপ্রাণিত?

সোনালী সেন: আমার অনুপ্রেরণার ব্যাক্তি নিঃসন্দেহে আমার বাবা। বাবার অনুপ্রেরণায় আমি অনুপ্রাণিত। মা লেখালেখি করতেন। মায়ের বইও বের হয়েছে।তবে বাবার খুব ইচ্ছে ছিল মেয়েকে পুলিশ অফিসার বানাবেন।দূর্ভাগ্যের বিষয় বাবা আমার পুলিশ অফিসার হয়ে ওঠা দেখে যেতে পারেনি।বাবা মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ পরে আমার ৩০তম বি.সি.এস এর রেজাল্ট দেয়।

কন্ঠ ৭১: একজন পুলিশ অফিসার সোনালী সেন এবং একজন গৃহিনী সোনালী সেনের পার্থক্য কতটুকু?

সোনালী সেন: অবশ্যই পুলিশ ও গৃহিনী হিসেবে আমাকে আলাদা স্বতন্ত্র, দুইটা প্লে-রোল করতে হয়।ব্যক্তি হিসেবে সোনালী সেন এক রকম ও পুলিশ অফিসার হিসেবে সোনালী সেন অন্য রকম।এতটুকু সতন্ত্র তো থাকবেই।আমি মনে করি প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা থেকে পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।সামাজকে ভালো রাখা যেমন আমার দায়িত্ব,তেমনি আমার পরিবারকে ভালো রাখার দায়িত্বটাও আমার।আমি পরিবারকে ভালো রাখতে না পারলে সমাজকে কি ভাবে ভালো রাখবো।

কন্ঠ ৭১: আপনি একজন মুক্তমনা লেখক, অসাধারণ লেখনশৈলি আপনার, অন্যদিকে আপনি ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত গান।ভবিষ্যতে গান ও লেখালেখি নিয়ে আপনার কোন পরিকল্পনা আছে কি?

সোনালী সেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুকিটাকি লেখা-লেখি করে থাকি। নিজের ভালোলাগা থেকেই এই লেখা-লেখির উৎপত্তি।ভবিষ্যতে এ নিয়ে বেশ কিছু দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে।আর হ্যা রবীন্দ্রসঙ্গীত, ইতিমধ্যে আমার বেশ কয়েকটা মিউজিক ভিডিও বের হয়েছে।যেহেতু আমি একটি সাংস্কৃতিক পরিবারের আদলে বড় হয়েছি সেহেতু সাংস্কৃৃতির প্রতি আমার আলাদা একটি টান আছে।

কন্ঠ ৭১: একজন সফল দেশ সেবক হিসেবে ছোট করে আপনার অনুভূতি ব্যক্ত করুন?

সোনালী সেন: আমার এই ক্ষুদ্র চাকরী জীবনে কতটুকুই বা দেশের সেবা করতে পেরেছি!তবে এই দেশে আমার জন্ম,আমার প্রতি দেশের বিনিয়োগ অনেক খানি, সর্বোপরি আমার বেতনটা এই দেশের জনগনের টাকা থেকেই নিচ্ছি।সেহেতু, দেশের প্রতি জনগনের প্রতি আমার অনেক দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে।আমি সর্বাত্বক চেষ্টা করি আমার দায়িত্বগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করার।

কন্ঠ ৭১: পুলিশ একটি চ্যালেঞ্জিংপেশা। এই পেশায় কাজ করতে কি কখনো কি পিছু-পা হয়েছেন?

সোনালী সেন: আমার অভিধানে পিছু-পা বলে কোন শব্দ নেই।পুলিশে চাকরি করতে যেয়ে অনেক ঝুঁকিপর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ত হয়েছে। তবে কখনোই পিছুপা হইনি। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, ও সৎ প্রচেষ্টা যে কোন বৈরী পরিস্থিতির মূহূর্তকে বদলাতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কন্ঠ ৭১: সর্বশেষ প্রশ্ন করি- ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আপনি কিভাবে দেখতে চান?

সোনালী সেন: আসলে বাংলাদেশকে নিয়ে তো আমাদের কারোরই তো স্বপ্নের শেষ নেই, এই বাংলাদেশ নিয়ে বলে আসলে নিজের অনুভূতি ব্যাক্ত শেষ করা সম্ভব হবে না।সবাই বাংলাদেশকে নিয়ে যেমন স্বপ্ন দেখে ঠিক তেমন আমিও দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply