জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

সহাস্যমুখ হাসি, একজন নারী যোদ্ধার ইতিকথা!

0


রাজিব হাসান:

যৌতুক কিংবা যৌন হয়রানি এক কথায় যেখানেই নারীর নির্যাতন এর সিকার সেখানেই তার উপস্থিতি। নারী অধিকার আদায়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনা ও এর আশপাশের জনপদে তার প্রচেষ্টা এখন স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত।
প্রশ্ন কে সে?

নারী দিবসে একজন যোদ্ধা নারীকে নিয়ে যখন লিখতে শুরু করেছি অবস্যই বলবো কে সে।

সংসার জীবনের বাধ্যবাধকতা, সামাজিক বঞ্চনা, দারিদ্রের টানাপোড়েন নানা প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে একজন বঞ্চিত নারী, নারী অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে বরগুনায় আওয়াজ তোলেন। মানুষ বলে হাতি ঘোড়া গেল সব নতুন পাগলের আমদানি। অনেকেই বলেছে ও মাতারি তুমি যা করতে আছ এগুলা ঠিক না। শোনার পাত্র সে ছিল না একঘে, গোয়ার মহিলা দাবি একটাই নারী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, নাছর বান্দা মহিলা দমেনি সেই থেকেই। আমাদের বরগুনার মানুষ তাকে তার প্রতিদান কিছুই দিতে পরেনি কিন্তু তিনি দিয়েছেন অনেক ব্যক্তিজীবনেও তিনি প্রমাণ করেছেন পরিশ্রম, অধ্যাবসায় এবং আত্মবিশ্বাস যেকোন নারীই দারিদ্র্যের বুক ছিড়ে বেরিয়ে আসতে পারে। পৌঁছাতে পারে কাঙ্খিত লক্ষ্যেও।

আপনার অনেকেই বুঝে ফেলেছেন এই যোদ্ধা কে? তিনি জাগনারীর প্রধান নির্বাহী “হোসনে আরা হাসি।”

তিনি নারী অধিকার আদায়ে বরগুনায় কাজ শুরু করেন ১৯৯৮ সালের শুরুর দিকে। স্থানীয় নারীদের একত্রিত করে নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে গঠন করেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন। যার নামকরণও ছিল নরীদের নিয়ে জাগোনারী। শুরু থেকেই স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং সহযোগিতায় উন্নয়ন সংগঠন জাগোনারী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে বরগুনা জেলার বিভিন্ন শহর থেকে শহরতলীতে। কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘ ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে। শুধু নারী অধিকার নয় বরগুনার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি ও তাঁর সংগঠন জাগোনারী।

একজন নারী ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা সংগঠনটি আজ বরগুনার অন্যতম প্রধান একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। সমাজের পিছিয়ে থাকা নারীর প্রতি তাঁর মমতা, দেশের জন্য তাঁর ভালবাসা আর তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশি বিদেশি বিভিন্ন দাতা সংস্থা আজ তাঁর উন্নয়ন সংগঠন জাগোনারীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
ইউনিসেফ,  ডিএফআইডি, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, একশন এইড, প্লান বাংলাদেশ, কানাডিয়ান হাই কমিশন, আগাখান ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশনসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় জাগোনারী বরগুনার বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন সংগঠন জাগোনারীতে এখন সরাসরি কাজ করছেন ১১৭ জনেরও বেশি মাঠকর্মী ও কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাগোনারীর উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

বরগুনার নারী নেতৃত্ব হোসনে আরা হাসির জন্ম ১৯৬৪ সালে বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালিয়া গ্রামে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাও তাঁর এই গ্রামে। ব্যক্তি জীবনে তিনিও বাল্যবিবাহর শিকার। বরগুনার তৎকালীন স্বনামধন্য একজন আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়ে অপ্রাপ্ত বয়সে। বাল্যবিয়ের নির্মম পরিণতি হিসেবে একসময় বিবাহ বিচ্ছেদেরও শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। জীবনের সিংহভাগ সময় তাঁকে কাটাতে হয়েছে একাকী ও অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে।

একাকীত্ব আর অসহায়ত্বকে জয় করেছেন তিনি। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সমাজকে নারী ও দাড়াতে পারে।

সাদামনের এই সফল নারী ভালবাসেন ফুলগাছ লাগাতে, জীবনে প্রাপ্তি অনেক, সম্মানিত হয়েছেন অগুনিতবার হাড়িয়েছেন ও অনেক। বিপদ, হুমকি জীবননাশ এর ভয়কেও জয় করেছেন সাহসী এই নারী। নির্ভিক এই নারী যোদ্ধা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন আজো সমাজে বঞ্চিত অসহায় নারীদের জন্য, তার পথচলা থামেনি। “হাসি” জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঞ্চিত নরীদের হাসির উৎস হয়েই থাকতে চান।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply