জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

সংবাদ প্রকাশের পর ট্রিপ নির্ধারিত হল নলছিটির ফেরী পারাপারের

0


হাসান অারেফিন
নলছিটি প্রতিনিধি:

‘নলছিটির ফেরী ছাড়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই’! গত কয়েকদিন অাগে গনমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে সুগন্ধা নদীতে নিয়মিত ফেরী চলাচল না করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র ফুটে ওঠে। এতে টনক নড়ে জেলা সড়ক ও জনপদের ফেরী বিভাগের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দ্যোগ নেয় সুগন্ধা নদীতে নিয়মিত ফেরী চলাচলের। সে লক্ষে মঙ্গলবার জেলা সড়ক ও জনপদ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ইনতেখাব ওয়াহিদ রুশো স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী অাদেশে নলছিটির সুগন্ধা নদীতে ফেরী চলাচলের ট্রিপ নিধার্রিত হয়। অাদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি জ্বালানী সাশ্রয়ের লক্ষে ষাইটপাকিয়া ফেরীঘাট দিয়া ট্রিপ নিধার্রিত করা হল এবং উক্ত ট্রিপে নিধার্রিত সময়সুচী অনুযায়ী জনসাধারণকে ফেরীপারের অনুরোধ জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত ট্রিপ অনুযায়ী নলছিটি প্রান্ত থেকে ফেরী ছাড়ার সময় সকাল ৮.৫০মি:, দুপুর ১.৫০ মি:, বিকাল ৫.১৫ মি: ও রাত ১০.০০ টা। এছাড়া ষাইটপাকিয়া প্রান্ত হতে ফেরী ছাড়ার সময় নিধার্রিত হয়েছে সকাল ৯.৫০ মি:, দুপুর ২.১৫ মি:, সন্ধ্যা ৬.১৫ মি:, ও রাত ৩.০০ টা।

এদিকে সুগন্ধা নদীতে ফেরী চলাচলের ট্রিপ নির্ধারন করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সুগন্ধা তীরবর্তী কাঠিপাড়া গ্রামের অাল অামিন ফকির বলেন, নদী পার হলেই নলছিটি শহর, তাই আমাদের আশেপাশের গ্রামের মানুষ নলছিটিমুখী। বাজারও করতে হচ্ছে নলছিটি গিয়ে। এখন ফেরির নিয়মিত সার্ভিস চালু হওয়ায় আমরা বিনামূল্যে নদী পার হতে পারবো।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ভৌরবপাশা ইউনিয়ন ফিল্ড অফিসার পুলক দাস বলেন, প্রতিদিন নলছিটি থেকে মোটোরবাইক নিয়ে ট্রলারে প্রতিবার ৫০ টাকা দিয়ে সুগন্ধা নদী পার হয়ে অফিসে যেতে হত। এতে অামাদের বাড়তি টাকা ও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হত।এখন নিয়মিত ফেরি চলাচল করলে কম খরচে যাতায়ত করতে পারবো। মগড় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্দ্যোক্তা সাহাবুদ্দিন মানিক বলেন এখন ট্রলারে ১৮ জন লোকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ১৮জন লোক না হলে ট্রলার ছাড়ে না। কখনো বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে গেলে অধিক ভাড়া দিয়ে ট্রলারে পার হতে হয়। এতদিন সরকারি ফেরি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দুর্ভোগের কমতি ছিলো না।এখন নির্দিষ্ট সময় ফেরী ছাড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হবেনা।

জানাগেছে, ২০০৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় ফেরির সার্বক্ষণিক সেবা। সেই থেকে দুর্ভোগ শুরু হয় নলছিটিবাসীর। তখন থেকেই সুগন্ধা নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। জেলা শহর ঝালকাঠির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ১৯৯৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুগন্ধা নদীর নলছিটি-ষাইটপাকিয়া পয়েন্টে একটি ফেরি চালু করে। শুরু হয় যাত্রীবাহী বাস চলাচল। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতেও সুবিধা হয় তখন থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিনামূল্যে ফেরি পার হয়ে যাতায়াত করতেন। দিনরাত জমজমাট ছিল ফেরিঘাট এলাকা। প্রতিদিন নলছিটি থেকে উপজেলার মগড় ও ভৈরবপাশা ইউনিয়নের শতশত মানুষ ফেরি পারাপার করতো।

এছাড়াও নলছিটি থেকে বিভাগীয় শহর বরিশালে সহজ পথে যেতে এই ফেরির বিকল্প ছিল না। প্রথম বছর ২৫ হাজার টাকায় ফেরিঘাট ইজারা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরের বছর একলাখ টাকায় ইজারা নেয় স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব কামাল বাবুল। এভাবে টানা পাঁচ বছর চলতে থাকে। নলছিটি-ষাইটপাকিয়া সড়ক ও পীর মোয়াজ্জেম হোসেন-মোল্লারহাট সড়কটি খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় বাসচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। যাত্রী কমে যাওয়ায় ২০০৪ বন্ধ হয়ে যায় ঝালকাঠি-নলছিটি রুটে সরাসরি বাস চলাচল। সেই থেকে সার্বক্ষণিক ফেরি চলাচলও থমকে যায়। এর পর থেকেই ফেরি ছাড়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই।

মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের গাড়ি আসলে ফেরি ছাড়া হয়। আর ব্যক্তিগতভাবে কেউ ফেরিতে গাড়ি পার করতে হলে দিতে হয় তেল খরচ বাবদ ৩০০ টাকা। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, ফেরিঘাট পাঁচ হাজার টাকাও ইজারা নিতে চাচ্ছেন না কোন ঠিকাদার। যাত্রীদেরও পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।

ফেরিঘাটের সাবেক ইজারাদার মাহাবুব কামাল বাবুল বলেন, আগে ফেরিতে ভাল ছিল। এখন লাভতো দূরের কথা লোকসান গুনতে হয়। আমি অনেক আগেই ইজারা ছেড়ে দিয়েছি। এখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিজেদের লোক দিয়ে ফেরি সার্ভিস কোন রকমের চালু রেখেছে। সরকারও ফেরিটি দিয়ে লোকসানে আছে।

ঝালকাঠি সদর ও জনপথ বিভাগ থেকে ফেরির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, ফেরিটি চালু হওয়ার পর থেকে লাভে ছিল। তখন ইজারাও দেওয়া হতো। এখন যে অবস্থা তাতে প্রতিদিন সরকারি গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি যাতায়াত খুবই কম। মাঝে মধ্যে দুইএকটি গাড়ি আসে, তাদের কাছ থেকে তেল খরচ বাবদ ৩০০ টাকা নিয়ে পার করে দেওয়া হয়। গড়ে প্রতিদিন ১০/১২টির বেশি ট্রিপ হয় না। এতে গড়ে প্রতিদিন আয় হয় সব মিলিয়ে ৭০০ টাকা, ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার টাকা। দুই হাজারের ওপরে গড়ে আয় হলে ফেরিটি লাভের মুখ দেখতো। এখন ঘাট ইজারা নেওয়া ঠিকাদার খুঁজে পাই না। জেলা সড়ক ও জনপদের ফেরী বিভাগের ফেরী চলাচলের নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অামরা ফেরী চলাচল শুরু করেছি।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply