জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

শ্রীলঙ্কা হামলা: শিশু জায়ানসহ প্রাণ হারালেন যাঁরা

0

গত রবিবারের (২১ এপ্রিল) হামলায় বাংলাদেশের শিশু জায়ান চৌধুরীসহ নিহতদের স্মরণে তিন মিনিটের নীরবতা পালন করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে এখনো বহাল রয়েছে জরুরি অবস্থা। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিহতদের জন্য গণ শেষকৃত্য।

কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্য দায়ী করছে ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত বা এনটিজে নামের একটি জিহাদি গোষ্ঠীকে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করেছে। তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কলম্বোর উত্তরে নেগম্বো শহরে সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় গণ শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ গির্জায়ও রবিবার চালানো হয় ভয়াবহ হামলা।

আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শোক ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান শুরু হয়। রবিবার যে সময় বোমা হামলা শুরু হয় সে সময়টিকেই নীরবতা পালনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং নীরবতা পালনের সময় মানুষ মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

হামলায় প্রাণ হারালো যাঁরা
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের ভয়াবহ হামলায় গির্জা ও হোটেলে নিহত হয়েছে ৩১০ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩১ জন বিদেশি নাগরিক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এঁদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি শিশু। তার নাম জায়ান চৌধুরী। সে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি। নিহত বাকি সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

বিদেশি অন্যদের মধ্যে ব্রিটেন, ভারত, ডেনমার্ক, সৌদি আরব, চীন এবং তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন।

সরকার ইতিমধ্যে গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এসব কারণে বিস্তারিত খবর আসতেও সময় লাগছে। এরপরও বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো কিছু মানুষের সম্পর্কে যা জানা গেছে তা নীচে তুলে দেওয়া হলো:

শ্রীলঙ্কার তারকা শেফ সামান্থা মায়াদুন্নে ও তাঁর মেয়ে নিসাঙ্গা
বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে প্রথম যাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সুপরিচিত শেফ সামান্থা মায়াদুন্নে। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মেয়ে নিসাঙ্গা সাংগ্রি লা হোটেলে সকালের নাস্তা গ্রহণ করছিলেন। এ সময় তোলা তাদের পরিবারের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি।

পরে তাদের পরিবারের এক সদস্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান সামান্থা ও নিসাঙ্গা দুজনই মারা গেছেন। তিনি লেখেন, ‘এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের চার কর্মী
হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টের চার কর্মী নিহত হয়েছেন এ হামলায়। এঁরা হলেন সান্থা, সাঞ্জিভানি, ইব্রাহিম ও নিসথার।

হোটেলটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এটি ছিল ব্যস্ত একটি সকাল। রবিবারের সকাল ও বুফে ব্রেকফাস্ট। তাই এটি আমাদের খুবই ব্যস্ততম একটি সময়।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা রেস্তোঁরায় সার্ভ করছিলেন। এর মধ্যে একজন লাইভ ফুড স্টেশনে হোপারস (শ্রীলংকান পেনকেক) বানাতেন।

সাংগ্রি লা হোটেলের তিন স্টাফ
ফেসবুকে এক বিবৃতি দিয়ে হোটেলটি জানিয়েছে, তাঁদের তিন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

ড্যানিশ বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ীর তিন সন্তান
ড্যানিশ ধনকুবের আন্দ্রেস হোচ পোভলসেনের তিন সন্তান নিহত হয়েছেন রবিবারের হামলায়। তাঁর একজন মুখপাত্র এটি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁদের কম্পানির পক্ষ থেকে আর কিছু জানানো হয়নি।

মাত্র চার দিন আগেই সন্তানদের একজন শ্রীলঙ্কায় তোলা একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। পোভলসেন (৪৬) জনপ্রিয় অনলাইন রিটেইলার আসস এর বড় অংশীদার।

ব্রিটেনের আট নাগরিক
কলম্বোতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস দাউরিস ব্রিটিশ নাগরিকদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

বেন নিকলসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁর স্ত্রী আনিতা, ১৪ বছর বয়সী ছেলে অ্যালেক্স এবং ১১ বছর বয়সী আন্নাবেল সাংগ্রি লা হোটেলে নিহত হয়েছেন।

চার রাজনীতিকসহ আট ভারতীয়
নিহত আট ভারতীয়র মধ্যে পাঁচজন ব্যাঙ্গালুরের একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। তাঁরা জনতা দলের সদস্য।

কর্ণাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামী টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি এসব নেতাকর্মীকে ব্যক্তিগতভাবেই চিনতেন। তাঁরা হোটেলে পৌঁছেই সরাসরি ব্রেকফাস্ট টেবিলে চলে যান। আর ৫৮ বছর বয়সী একজন রবিবার সকালেই দুবাই থেকে কলম্বো গিয়েছিলেন স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। কেরালার এই নারী স্বামীর সঙ্গে দুবাইতে বসবাস করতেন।

দুই তুর্কি প্রকৌশলী
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদলু সেদেশের দুই প্রকৌশলীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রকৌশলী সেরহান সেলচুক নারিসি ২০১৭ সাল থেকে কলম্বোতে বাস করছিলেন। তাঁর পিতা আনাদলুকে জানিয়েছেন সেরহান সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভবন নির্মাণ কাজে জড়িত ছিলেন।

আরেকজন হলেন ভিগিত আলী কেভাস, তিনিও একজন প্রকৌশলী। তবে বিস্ফোরণের সময় তাঁরা কোথায় ছিলেন সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

অস্ট্রেলীয় মা-মেয়ে
নেগোম্বো শহরে সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় নিহত হয়েছেন এক অস্ট্রেলীয় মা ও তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে। মানিক সুরিয়ারাচি ও মেয়ে আলেক্সান্দ্রিয়া গির্জায় রবিবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন স্বামী সুদেশ কলনের সঙ্গে। তিনি একটু বেরিয়েছিলেন গির্জা থেকে, তখনি বিস্ফোরণটি ঘটে।

সুদেশ কলন বলেন, ‘প্রচণ্ড শোরগোল শুনলাম। দেখলাম আমার মেয়েটি ফ্লোরে এবং আমি তাকে তোলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে এর মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে। এরপরই দেখি আমার স্ত্রীকে।’

বাংলাদেশি রাজনীতিকের নাতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও এ ঘটনায় নিহত হয়েছে। কলম্বোর হোটেলে বিস্ফোরণে মারা যায় সে। হামলায় জায়ানের বাবা আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পর্তুগালের ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার রুই লুকাস, ডাচ নাগরিক মনিক অ্যালেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডিয়েটের কোভালস্কি এবং ওয়াশিংটনের স্কুলছাত্র কিয়েরেন শাফরিটজ ডি জয়সা।

যদিও স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে, অন্তত চারজন আমেরিকান এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply