জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

লেনিনের মূর্তি ভাঙা কতটা জরুরি ছিল, একটু চেখে দেখা ভাল

0

লেনিনের মূর্তি
সম্বিত পাল

কী দিয়েছ গুরু! বেড়ালকে এভাবেই প্রথম রাতে মেরে দিতে হয়। নয়তো কখন আবার মাও থুড়ি ম্যাও ম্যাও করে বসবে কে জানে।

সুতরাং জিতে উঠেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও ওই ছুঁচোর মতো দাড়িওয়ালা টেকো লোকটাকে। কে এক বিদেশি! এখন আমাদের রাজত্ব। সেখানে বিদেশিদের কোনও স্থান নাই। সব স্বদেশি হবে। ইতিহাসও স্বদেশি। মূত্তি ভাঙা একটা পোতিকী ব্যাপার।

মনে নেই কত এলসি, এলসিএস-এর দাপট দেকিয়েছিলে তোমরা! কত ভয়, কত কুণ্ঠা নিয়ে তোমাদের দুয়ারে দাঁড়াতে হতো! এবার বোঝো ঠ্যালা। তোমাদের বাপ ঠাকুর্দাদের দিয়ে শুরু করেছি। এর পর তোমাদের পালা।

ওসব আতুপুতু করে লাভ নেই। পোথম দিনেই দেকিয়ে দিতে হবে আমরা এসে গেছি। তোমরা দেকে নাও। ভাবো তো কতদিন তোমাদের মনের মধ্যে ওই বুলডোজার আর উলটে পড়া লেনিন মূত্তির ছবি লটকে থাকবে। ভাববে আর আঁতকে উঠবে। যকনই ভাববে, তকনই আঁতকে উঠবে।

আরে লেনিন-বেলিন বুজি না। ভয় দেখানো বুজি। পরে ফিস ফাই খাইয়ে দেব। কিন্তু দোকান-বাড়ি ভেঙে আগে মনোবল ভেঙে ফেলতে হবে। আরে আমরা ৫০, তোমরা প্রায় ৪৫। হাতে তো মাত্ত ৫ শতাংশ ভোটের ফারাক। আবার মাথা তোলার আগেই ঘরে পুরে দিতে হবে।

দ্যাকোনি পশ্চিমবঙ্গে কী হয়েছে? বদ্দমান, গড়বেতা, হলদিয়া, জঙ্গলমহল, যাদবপুর— কেউ মাথা তুলতে পেরেছে? সব ঘরে ঢুকে গেছে। কারণ ওখানেও পোথমেই ঠ্যাঙানি দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পরে ফিস ফাই।

এদিকে ত্রিপুরার বামেদের কলকাতার একদল জাতভাই সেমসাইড গোল দিয়ে দিয়েচে। এক পিস শ্যামাপোসাদ পেয়েচে, দিয়েচে কালি মাখিয়ে। দু’ঘা হাতুড়ির বাড়িও দিয়েছে। নিজেরাই ভিডিও তুলেচে। শুনলাম নাকি দীনদয়াল বলে কার একটা মূত্তি খুঁজচে কলকাতাতে।

তা অতিবামেরা ভালই করেছে। ১ গোলে হারছিল ওরা, ১-১ করে দিয়েচে। শুনেছি অমিতভাই দুষ্টু ছেলেদের শাস্তি দিতে বলেছে। আর নরেন্দ ভাই বলছে, দুষ্টু ছেলেদের পুলিশ দিয়েই শায়েস্তা করতে হবে।

এদিকে দিলীপদা ও লকেটদি কী সুন্দর দুধকলা নিয়ে তিনোমূলের সঙ্গে ঝাড়পিটটা কল্লো দ্যাকো! শ্যামাপোসাদকে শুদ্ধু করবে বলেছিল! কী সুন্দর হিন্দু হিন্দু গন্দ বলো দেকি! কমিউনিস্ট কী মায় তিনোমূলই কি কোনওদিন দুধ দিয়ে মূত্তি শুদ্ধু করার কতা ভেবেছিল!

অতিবামেরা কী সুন্দর ওঁদের জায়গা করে দিল দ্যাকো দেকি। তবে যাদবপুরের ছোকরাগুলো ভালই করেচে। কোনও ঝান্ডা হাতে পোতিবাদ নয়। সোজা গিয়ে অ্যাটাক।

আসলে যেমন ইট, তার তেমন পাটকেল। একদিকে ঠ্যাঙানি খাব, অন্যদিকে অহিংস পোতিবাদ করব, ওসব দিন গাঁধীজির আমলে ছিল। এখন মারের বদলা মারেই হয়। শুদু নীতিকতা দিয়ে কিছু হয় না।

ব্যাস আর কী! দেকেচেন না পোথম দিন কীরকম সিএম মানিকবাবুকে পোলিং বুথে বসে ধমকে দিয়েচে আমাদের এক দিদি। দেকচেন না বলে দিয়েচে পোলিং অফিসারকে, উনি এখন আর সিএম নন। ওঁর কথা শুনে চলে লাভ নেই। ভোট গণনা আটকে দিয়ে এমন কড়কে দিল যে, দিল্লিতে সীতাদাদের নির্বাচন কমিশনে ছুটতে হল।

তাতে কী! পরের দিন গিয়ে পাটি অপিসে মানিকবাবুকে পেন্নাম ঠুকে দিলাম। ব্যাস। হয়ে গেল। ভয় পাওয়ানো হল, সঙ্গে সৌজন্যও হল।

আসলে আপনারা বোজেন না, এসব মানুষের রাগের বহিপ্পোকাশ। এর পরেই তো খেলা জমে ক্ষীর।

কী সুন্দর মুত্তি ভাঙা খেলা শুরু হল বলুন তো দেশ জুড়ে। উত্তরপ্রদেশে অম্বেদকর, তো তামিলনাড়ুতে পেরিয়ার। কলকাতায় শ্যামাপসাদ, তো ত্রিপুরায় লেনিন।

আসলে আমরা তো সেটাই চাই। যুদ্দু লাগুক দেশ জুড়ে। ইদানীং টিভিতে দেকেচেন কখনও “মেরা সুর মিলে তুমারা”-র মতো গান। ওসব আমরা গাই না। ওরা বলে দিয়েচে, আমরা আমাদের সুরের মতো সবার গলায় সুর ধরাতে চাই। একটাই সুর হবে। ‘ওরা-আমরা’ বলে কিচু থাকবে না ভাই। বলে দিয়েচে, আমরা এখন অখিল ভারতীয় পাটি। কোহিমা থেকে কচ্ আর কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীতে আমরা আচি। বেশি ট্যাঁ ফোঁ করো না। ওসব ‘শহিদের রক্ত হবে নাকো ব্যত্থ’ অনেক শুনেছি। আমাদেরও শহিদ রয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনে না হোক, নতুন ভারত গড়ার আন্দোলনে তো শহিদ আচে। সীমান্তে কত শহিদ আচে আমাদের, সে খেয়াল আচে তোমাদের?

লেনিনি-টেনিন ছাড়ো. ওসব ইতিহাসে কাজ নেই। দেশের ইতিহাস পড়ো। ভাঙড় আর ভিয়েতনামের মিল কোতায়, পড়ে কাজ নেই। এমনিতেই তো এতদিনে কোমিরা তাদের ক্যাডারদের এসব বোঝাতে পারেনি। শুদু ক্ষমতায় থাকতে পেরেই খুশি রেকেচে. নয়তো কি, দলে দলে সব চাড্ডি বাহিনীতে নাম লেখায়, ভোট দেয়। কাজেই মূত্তি ভাঙাতে লোকের বিশেষ কিছু যায় আসে না।

তবে সত্যি বলছি মাইরি, লেনিন নয়, আমি মরছি নিজের জালায়। লেনিন-টেনিনে আমার কিছু এসে যায় না। আমি খিল্লি দেখছি। খিল্লি কচ্ছি।

আমার আসল চিন্তা, বঙ্গদেশে ওরা এসে তো বিফ-টিফ তুলে দেবে, সেটা সিওর। কিন্তু গায়ের জোরে যদি মাছ-মাংসও তুলে দেয়! যদি পনিরের আর ঘাসপুসের রাজত্ব শুরু করে, তখন কী করব। লেনিন মনের গভীরে নিয়ে বাঁচতে পারি। মূত্তি ভাঙুক। কিন্তু মাছ-মাংস তো শুধু মনে নিয়ে বাঁচতে বললে মরে যাব। তখন কী হবে!

লেনিন নিয়ে হাসাহাসি কচ্ছেন তো? পাপ হবে। নিজের দজ্জায় লাথি পড়লে তখন বুজবেন ঠ্যালা। দেকে নিন, আপনি কী করবেন।

-এবেলা.ইন

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply