জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

রমজান ও কোরআনের নিবিড় সম্পর্ক

0


মুফতি শাহেদ রহমানি:

মাহে রমজান কোরআন নাজিলের মাস। শুধু কোরআনই নয়, এ মাসের সঙ্গে অন্য আসমানি কিতাবের সঙ্গেও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যে চারটি প্রধান আসমানি কিতাব নাজিল করেছিলেন, এর সবই মাহে রমজানে অবতীর্ণ হয়েছে। তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কোরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ রমজানের পরিচিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘মাহে রমজান, যে মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে কোরআন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

এ কারণেই এ মাসকে কোরআনের মাস বলা হয়। কাজেই এ মাসের প্রধান আমল হলো পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘জিবরাইল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে আগমন করতেন এবং কোরআন শরিফ ‘দাওর’ করতেন অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) ও জিবরাইল (আ.) একে অন্যকে কোরআন শুনাতেন।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ১৯০২)

বর্তমানে অনেকে কোরআন পাঠের চেয়ে কোরআনের অর্থ অনুধাবনে বেশি আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে মুফতি মুহাম্মাদ শফী (রহ.) লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ কোরআনের অর্থ ও মর্ম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করুক—এটিই কোরআনের দাবি। সুতরাং এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে কোরআন মজিদের আয়াত নিয়ে চিন্তাভাবনা করা শুধু ইমাম ও মুজতাহিদের (বড় বড় আলিমের) কাজ। অবশ্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পর্যায়ের মতোই চিন্তাভাবনারও বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজের ভাষায় কোরআন মজিদের তরজমা-তাফসির পড়বে ও চিন্তাভাবনা করবে, তখন তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ও পরকালের চিন্তা সৃষ্টি হবে। আর এটিই হচ্ছে সব সফলতার চাবিকাঠি। তবে ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের উচিত কোনো আলিমের কাছে অল্প অল্প করে পাঠ করা। এর সুযোগ না থাকলে কোনো নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাব পাঠ করবে এবং যেখানেই কোনো প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দেয়, নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি দ্বারা উত্তর না খুঁজে বিজ্ঞ আলিমের সাহায্য নেবে। (মা’আরিফুল কোরআন : ২/৪৮৮)

তবে সবার আগে বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা শিখতে হবে। বিশুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য কিছু সুরা মুখস্থ করার বিকল্প নেই। কেননা ফরজ আমলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন ফরজ। আর কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির পাঠের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ঝুঁকিমুক্ত নয়। কেননা কোরআন পাঠ করে বহু মানুষ বিভ্রান্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি খোদ কোরআনেই উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘…এর মাধ্যমে তিনি অনেককেই বিভ্রান্ত করেন, আবার বহু লোককে সৎপথে পরিচালিত করেন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬)। তাই বহু আলেম সর্বসাধারণের জন্য ব্যক্তিগত অধ্যয়নে কোরআন চর্চায় অনুৎসাহী করে থাকেন।

লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply