জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

মুমূর্ষ রোগিকে বাঁচাতে অগ্রণী ভূমিকায় ঝালকাঠির অ্যাম্বুলেন্স চালকগণ

0


মোঃ আতিকুর রহমান:

৯ মাসের অন্তসত্ত্বা, ডেলিভারী সময় হয়েছে। তাই ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জন্ডিসের রোগী বলে ধরা পড়েছে। প্রসব বেদনায় চিৎকার করছে। ডেলিভারী রোগির জন্ডিস, এধরণের চিকিৎসা দিতে ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডাঃ জোয়াহের আলী হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীকে বাঁচাতে এবং সুস্থ্য রাখতে চিকিৎসক বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম হাসপাতালে) প্রেরণ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেখানে পৌছতে না পারলে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ কাওছার আহমেদ ঘটনা শুনেই মুমূর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে উপস্থিত। রোগী নলছিটি উপজেলার নাঙ্গুলী গ্রামের মোঃ জামাল হাওলাদারের স্ত্রী জায়েদা আক্তার চাঁদনী। তার সাথে ছিলেন মা, ভাই ও বোন। নার্সদের সহায়তায় তাঁরা এ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে তুলে নিয়ে যান বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে। এটি কোন গল্প বা রূপ কথার কাহিনী নয়। ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সোমবার দুপুরের বাস্তব চিত্র এটি।

শুধু জায়েদা আক্তারই নন। এভাবে প্রতিদিন ২/৩ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার বরিশাল নিতে হয় এ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার আহমেদকে। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ কাওছার আহমেদ ২০১২ সালে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গাড়ী চালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি রাজাপুর উপজেলার চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামের মোঃ হোসেন আলী হাওলাদারের পুত্র। ৮ ভাই বোনের মধ্যে সে ৬ নম্বরে। ব্যক্তিগত জীবনে কাওছার ৩ সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর প্রথম বারে জমজ দু’টি পুত্র সন্তান হয়। তাঁদের নাম রাখা হয় কামরুল ও মাইনুল। দু’জনেই ঝালকাঠি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। ছোট সন্তান মীম’র বয়স ৪ বছর।

গাড়ি চালক কাওছার আহমেদ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপপরিচালকের গাড়ি চালক থেকে বদলী হয়ে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগদান করেন। শুধু কাওছার আহমেদই নন এভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ আবু হানিফ ও মহসিন হোসেন।

রাত নেই – দিন নেই, গোসল – খাওয়া ও ঘুম নেই, পরিবারের সাথে সময় না দিয়ে মুমূর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে তারা অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন। রোগীর স্বজনদের কল পাওয়ার পর আসতে ২ মিনিট দেরী হলে বকা-ঝকা, তিরস্কার, ভর্ৎসনা, কটাক্ষ ও কটুক্তি মূলক বাক্য ছুড়েন এ্যাম্বুলেন্স চালকের প্রতি। সেদিকে কর্ণপাত না করে রোগীকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করে বলে জানান মোঃ আবু হানিফ।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply