জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

মাগুরা বিদ্যুৎ অফিসের দুর্নীতির চিত্র- ১

0


মাগুরা বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতির ভয়াবহতা নিয়ে ২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ প্রথম পর্ব:

আসিফ হাসান কাজল:

মাগুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবেদন থেকে শুরু করে সংযোগ কর্তন ও পুঃসংযোগ সব ক্ষেত্রেই চলছে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতি। এক্ষেত্রে যেমন সরকার তার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারন গ্রাহক ও জনসাধারণ। বিদ্যুৎ সংযোগ আবেদন, কর্তন, খুটি থেকে দূরত্ব এমনকি পৌর এলাকার বাইরে গ্রাম বা ইউনিয়নে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

মাগুরা রাঘবদাড় ইউনিয়নের পাটকেলবাড়িয়া এলাকায় পল্লীবিদ্যুৎ থাকার কথা থাকলেও প্রতি ঘর থেকে টাকা চাঁদা তুলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলী ও অফিস কর্তাদেরকে দিয়ে বে-আইনী ভাবে সংযোগ প্রদান করার ঘটনাও ঘটেছে। পাটকেলববাড়ি এলাকার মোঃ মিটুল এই ব্যপারে জানায়, প্রতিটি বাড়ির অবস্থা বিবেচনা করে চাঁদা তুলে (১৫০০-১০০০০) টাকা স্থানীয় এক দোকানদারের সহায়তায় ও বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশে এই কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এছাড়াও বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই বছর পাটিকেলবাড়ীয়া, জোতপাড়া, সাতদোয়া, কাদীরাবাদ এলাকায় ব্যক্তি প্রয়োজনে খুটি স্থাপন করতে বৈদুতিক খুটি বাবদ গড়ে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জানান, RC\DC অর্থাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ কর্তন ও পুঃসংযোগের জন্য নির্ধারিত সরকারী ফি ১২০০ টাকা অফিসিয়াল ভাবে নেওয়া হলেও সরকারী কোষাগারে/ওজোপাডিকোতে সেই অর্থজমা পড়ছে না। সরেজমীনে অনুসন্ধানেও মিলেছে এর সত্যতা।

দেখা যায় এমন ঘটনার ১০ টি অর্থ অফিসিয়াল ভাবে নেওয়া হলেও মাত্র একটির টাকা সরকারীভাবে চালান করা হয়।
এই ব্যপারে মাগুরা বিদ্যুৎ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম এর সাথে দেখা করা হলে তিনি বলেন, যে না আরসি/ডিসি নেওয়া হয়তো, ও তা সরকারি কোষাগারেও দেওয়া হয়। পরে গত ২ মাসে কতগুলো সংযোগ কর্তন হয়েছে ও এই রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে এই প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নাই। পাটকেলবাড়ীয়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ কেন অবৈধভাবে দেওয়া হলো এই কথায় নিজের দ্বায় এড়িয়ে বলেন, পূর্বের নির্বাহী প্রকৌশলী এর জন্য দায়ী। সংযোগ আবেদনের জন্য অতিরিক্ত টাকা ঘুষ নেওয়ার ব্যপারে কোন কথা বলবেন না বলেও জানিয়ে দেন।

এই ঘটনায় চিফ ইঞ্জিনিয়ার হাসান আলীকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরে ওজোপাডিকো ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় পরে চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও,এম & এস,ডি কে ঘটনা খুলে বলা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের সংযোগ দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। আমি এখনই এই ব্যপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করছি বলে জানান।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply