জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

বেতন আর রেশন এ সংসার চালানো একজন পুলিশ সুপার

0


আসিফ হাসান কাজল
বিশেষ প্রতিনিধি:

১৮ দিন ধরে উধাও একজন ৩৩ বছর বয়সী পুরুষের বউ ও তার ৬ বছরের ছেলে। হঠাৎ করেই নাকি ফোন এসেছে লোকটির স্ত্রী কে তালাবদ্ধ করে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে। কোন একটা কক্ষে বাড়ীর অন্দরে। তাকে সাথে নিয়েই মাগুরা পুলিশ সুপার মহোদয় এর কক্ষে বসে এই কেস নিয়েই কথোপকথন। কেন জানি কোন অপরাধ সূত্রের সাথেই যেন অভিযোগটি যায়না। বলছিলেন বেশ ইন্টারেস্টিং কেস! আচ্ছা আপনি কিছু করে তো….. সরি টু সে.. বউ ছেলে হারিয়েও যে অস্থিরতা থাকার কথা তা আপনার মধ্যে দেখছি না! অধিনস্থ কোন কর্মচারী কে ডাক দিলেন, যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল সেই নম্বরটি ট্রাকে দিয়ে দিলেন আর বললেন,আপনার স্ত্রীকে খুঁজে বের করে দিব যে কটা দিন আছি তার মধ্যেই। খুঁজে না দিয়ে যাচ্ছি না। গতকাল দুপুরের পুরুষটি তার,বউ ছেলে মেয়ে খুজে পেয়েছেন। কিন্তু….. সেটি পরে জানানো হবে।

এই পুলিশ সুপার একজন জেলা পুলিশের অভিভাবক নন সে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া একজন অতিরিক্ত ডি,আই,জি। যাবার আগে একটা ছবি তুলতে চাওয়া হলে কোথায়,যেন এক আবেগজনিত ছন্দ পতন ঘটলো। বললেন আমি তো চলেই যাচ্ছি ছবি তুলে আর কি হবে নতুন যে আসছেন তার টা তুললেই ভালো হবে। কথা প্রসঙ্গে বেরিয়ে আসলো নানা গল্প যে গল্প এই সময়ের রন্ধে থাকা পুলিশবাহিনীর প্রতি যে ঢালাও অভিযোগ নানা মানুষের তার ব্যতিক্রম। যেন অনন্য মানুষটি তার কর্মজীবনে।

মাগুরা গোয়েন্দা শাখার একজন এস আই মোস্তাফিজুর রহমান। কথাপ্রসঙ্গে তার থেকে জানতে চেয়েছিলাম কেমন আপনাদের সাহেব? যেন ভালো কেউ তো মানুষ আর এখন ভালো চোঁখে দেখতে চাইনা!! আমাকে বলা হয়েছিল, অর্ধযুগ পুলিশবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে কখনো কোন এস,আই সোর্স মানি কি তা শুনেছে, কিন্তু পেয়ে দেখেনি। ইনিই একমাত্র পুলিশ সুপার যার সময়ে পুলিশ সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সোর্স মানি পেয়েছে। অধিনস্থ সকল পুলিশ অফিসারই তাকে প্রচন্ড সম্মান করে ঠিক যতটা সম্মান একজন সৎকর্ম করা অধিপতিকে দেখাতে হয় তার চেয়েও ঢের বেশী।

এই পুলিশ সুপারের নাম – না এই ভালো সৎ মানুষটির নাম জনাব মুনিবুর রহমান। বলছিলেন, চাকরীর এ জীবনে কখনো একটা হারাম টাকা তিনি ছুয়ে দেখেননি। সরকার ১৫ লক্ষ টাকা প্রতিমাসে সোর্স মানি হিসাবে দেয় যার ৮-১০ ভাগ তিনি নিজে রেখে বিভিন্ন থানায়,গোয়েন্দা শাখায়,স্পেশাল ব্রাঞ্চ নানা জায়গায় ভাগ করে দেন। জীবনকাল তার চাকরীর প্রথম মাস থেকেই চলে আসছে বেতন আর রেশনের টাকায় একদম অহমিকা ছাড়ায় অবলীলাক্রমে বলে যাচ্ছিলেন পুলিশ সুপার মুনিবুর রহমান। তাকে হারিয়ে মাগুরাবাসী কি একজন ভাল অভিভাবক হারাচ্ছে না এমন প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন এমন আমাদের কাজটাই তো মানু্ষের সেবা করা। ২৪ ঘণ্টা আমরা জেগে আছি,থাকবো মানুষের বিপদে মানুষের সেবায়। যিনি আসবেন তার সম্পর্কে বলে গিলেন অবশ্যই তিনিও অনেক ভাল সেবা দিবেন,মাগুরার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে, উন্নয়নে নিরলস কাজ করবেন এই প্রত্যাশা রেখে বলেন। তখন বলেছিলাম গত কয়েক মাসে আশপাশের জেলার একাধিক পুলিশ সুপারের সাথে আমার কথা হয়েছে। হয়তো সবাই ভাল কিন্তু যাকে রাত ৩ টায় ফোন করে বিরক্ত করে সমস্যার কথা বলা যায়.. বলতেই তার উত্তর আমরা ২৪/৭ সব সময় তখন বলা হয়েছিল সবাই কিন্তু আপনার মত ভালো লিসেনার /শ্রোতা নয়, যে গভীর মনোযোগে আগে শুনে থাকেন পরে সমাধান বা উত্তর দেন! উত্তর টা দেননি বিদায়ী মাগুরা পুলিশ সুপার। যে নিরবতায় বিদায়ের প্রতিধ্বনি ঘন্টা বাজিয়ে চলেছে……

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply