জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

পুলিশে যত ভয়

0


আসিফ হাসান কাজল:

দুপুরে মধ্য আকাশে আজ মেঘেরঘটা নেই! নেই বৃষ্টিঝড় এর কোন শঙ্কা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ছিল না কোন বিপদ সংকেত! তবু বাড়ির উঠানে হঠ্যাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় লোকের উপস্থিতি নিম্নবৃত্ত পরিবারের মানুষের মনে আশংকার সৃষ্টি করলো! এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো যতটা না পৃথিবীর উপর প্রকৃতির দু:শাসন কে ভয় পায় তার থেকে ঢের বেশি ভয় পাই পোষাক পড়া এই রক্ত মাংসের মানুষের!

দারোগা এসেছেন বাড়িতে প্রবাসী এক পতির স্ত্রী কে খুঁজতে! কি ভয়ানক! এমন কারনেই আমার ফোনে একটি পরিবারের ভয়ংকর আর্তনাদ, ফোনটি সেই স্ত্রীলোক এর ভাই করে বলছে বিকাল বেলা থানায় যেতে হবে আমার বোনকে নিয়ে! কারন জিজ্ঞাসা করলাম।
কেন যেতে হবে? অনেক কথায় বলছিল আমি বললাম সংক্ষেপে বলে ফেলো…..
বললো ভাই আমার বোনের নম্বর দিয়ে নাকি একটা নম্বরে কথা হয়, যাকে পুলিশ খুঁজছে! কিন্তু আমার বোন বলল এই নম্বর সে চিনেই না পরে পুলিশের সামনে ফোন ও করলো কথাও হয়েছে তবে উল্টাপাল্টা ঠিকানা,নাম বলছে!
আমি প্রশ্ন করলাম লোকটিকে কেন খুঁজছে পুলিশবাহিনী? উত্তরে জানালো এই লোকটি নাকি ডাকাত বা চুরিঘটিত কোন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত! আমি বললাম তোমার বোনকে ভালকরে জিজ্ঞাসা করো সে আসলেই কথা বলতো কি না?
ততক্ষনে বিকাল হয়ে এসেছে পরিবারের অভ্যন্তরে ছোট বড় যে যার মতো জিজ্ঞাসাবাদ চলেছি, শেষ প্রস্তুতি পুলিশগৃহে প্রবেশের আগে তখন নিম্নবিত্ত ঐ বাড়ি জুড়ে।
আমি বললাম যাও দেখ কি বলে.. তবে পুলিশ এর লোকজন আসলে হয়রানি করতে এসব করে না, সত্যিই তারা কোন ক্লু পেয়েছে বলেই বাড়ি পর্যন্ত এসেছে।

থানায় যাবার পর…….
আবার ফোন আসলো, আমি বললাম কি হলো? সে জানালো আসলে আমার বোনের জা এর মেয়ে এই নম্বর দিয়ে কথা বলে নাকি ঐ ছেলের সাথে। তারপর?
এখন এই মেয়েকে দিয়ে পটিয়ে পটিয়ে ঐ ছেলেকে আনার কথা বলছে। আমি বললাম দেখেছো? আসলে অযথায় কারোও বাড়ির উপর যেয়ে এভাবে হয়রানি করার সময় আর সবার থাকলেও পুলিশের নেই। যা বলেছে সেভাবেই তাদেরকে সাহায্য করো।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে বলছি……
সাংবাদিকদের কাছে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ অভিযোগ আসে পুলিশের বিপক্ষে। এই পুলিশ নামের মানুষরা নাকি কাউকে পকেটে মাদক দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে, টাকা খেয়ে ছেড়ে দিছে, আবার কিছু পাইনি তাও ধরে নিয়ে গিছে ইত্যাদি। আমার সখ বলেন বা প্যাশন, আমার কর্ম বলেন বা কর্মের শেষ বৃত্ত বলেন আমি একটু ক্ষতিয়ে দেখতে যায়। তবে সত্যিই যা দেখেছি তা হলো আমার গোটা পঞ্চাশ অভ্যন্তরীণ তদন্তে এসব অভিযোগের বিন্দু পরিমাণ সত্যতা পাইনাই!!!

বরং যে আগে মাদক ব্যবসা করতো খুঁচরা আকারে। এলাকার সবাই জানে সে এখন মাদক ব্যবসা ছেঁড়ে টুপি পড়ে আপাদমস্তক ধার্মীক হয়ে গিয়েছে। তাকেও নাকি পুলিশ ভাল থাকতে দিলো না ধরে নিয়ে গিয়েছে। আমি কখনো পুলিশদেরকে জানিয়ে কখনো না জানিয়েই এসব এর কারণ খুঁজে গিয়েছি… তবে যা পেয়েছি তা হলো লোকটি এখন মসজিদে ৫ বার যাওয়া আসা করলেও খুঁচরা বিক্রেতার জায়গায় মাদকের পাইকারি বিক্রেতা তাই সাদা চোঁখে এলাকার মানুষ সাধু ভাবলেও আসলে সে তিন চাকার বা চার চাকার যানে মাদক পাচার করছে। কি ভয়ানক!!!
আর যা শিখেছি তা হলো দুষ্টু লোক, অপরাধী মানুষ সিম্পাথি দেখায় সাংবাদিক ও পুলিশের বড় কর্তাদের কাছে! আসলে তাদের মুখের বুলির সাথে কর্মের কোন সঙ্গতি নেই!!
তাই সত্যি করেই বলছি আমার দর্শনে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে খারাপ মানুষের সংখ্য নিতান্তই হাতে গোনা! তার থেকেও বেশি খারাপ আমি,আপনি,আমরা। ধন্যবাদ

——বিশেষ দ্রষ্টব্য: কেউ ইহাকে আরব দেশের সহজলভ্য খনিজসম্পদ এর দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবেন না।
উক্ত খনিজসম্পদ আমার ডিকশনারিতে প্রায় অনুপস্থিত।

এই কথায় বিনা কারনে পোষাক পরিহিত ভাই কিংবা সাদা পোষাকে আমাকে তুলে নিয়ে যাবেননা।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply