জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

নড়াইলে পানের বাজারে আগুন

0


উজ্জ্বল রায়
নড়াইল প্রতিনিধি:

পান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এলাকায় এবার আবাদ ভালো হয়নি। ফলে হু হু করে বাড়ছে পানের দাম। নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা, এড়েন্দা হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুব ছোট এক পোন (৮০টি) পান বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। একটু বড় ও ভালো মানের পান বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতি খিলি পান ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরো দোকানদাররা পাঁচ টাকার বিনিময়ে সাজতেন এক খিলি পান। এখন তাও বেড়েছে।

নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা বাজারের পান বিক্রেতা গোবিন্দ দে জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে এ বছর পানের বরজে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। ফলে, বরজের বেশিরভাগ পান ঝরে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে। বরজে পান নেই বললেই চলে। এ কারণে বাজারে পানের দাম বেড়ে গেছে। নড়াইলের লোহাগড়া বাজারের পান ব্যবসায়ী দীপক মল্লিক জানান, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে বরজের পান হলুদ বর্ণ ধারণ করে ঝরে যায়। গেল শীত মৌসুমে বরজের বেশির ভাগ পান ঝরে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে বাজারে পানের সরবরাহ কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবে দামও বেড়ে গেছে।

নিয়মিত বাজার থেকে পান কেনেন শহরের মশাঘুনি এলাকার আবদুর রাজ্জাক খান। তিনি বলেন, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে পানের দাম বেড়ে থাকে। কিন্তু এ বছর পানের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। ফলে, পান খাওয়া আগের তুলনায় কমে গেছে। পানের দাম নিয়ে একই সুরে কথা বললেন নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা এলাকার বিপুল বিশ্বাস, পার-মল্লিকপুর গ্রামের দুলোল ঠাকুর, লক্ষ্মীপাশা গ্রামের তরিকুল ইসলাম। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস কন্ঠ ৭১-কে জানান, প্রতিবছর শীতের সময় বরজে পানের কিছুটা ক্ষতি হয়। এ সময় বরজের অধিকাংশ পান ঝরে পড়ে। ফলে সাময়িকভাবে দাম বাড়লেও একটু বৃষ্টি হলেই নতুন পান বাজারে আসবে। তখন পানের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

নড়াইলের বিভিন্ন স্থান পানের হাট বাজার গুলোতে হঠাৎ যেন আগুন লেগেছে। পানের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা সাধারন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে সদর হাট পানের বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকা দরে ১ বিরা (৬৪ টি পান)। একটু ভালো পান বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। আর বড় ও ভালো পান বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। খিলি পান দোকানগুলিতে প্রতিটি ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ৫-৬ টাকা দরে।

নড়াইল হাটের পান ব্যবসায়ী, জানান, আমদানী নির্ভর এলাকা । এ সময় এখানে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পান আসে। এবার ঘন কুয়াশার কারণে পানের বরজে ছাএাকের আক্রমণ বেশি হওয়ায় পান নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন পান না আসা পর্যন্ত পানের দাম এ ভাবেই উঠা নামা করে। প্রতি বছরই এসময় পান নষ্ট হওয়ার বিভিন্ন অজুহাতে বাজারে পানের দাম বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

বাজারে পান ক্রয় করতে আসা সেতু নামের একজন ক্রেতা, হঠাৎ করে পানের দাম কেন বেড়েছে বুঝতে পারলাম না। আড়তদাররা অধিক মুনাফার জন্য বাড়িয়েছে, নাকি মোকামে পান সংকট। কিছুদিন আগেও যে পান প্রতি বিরা কিনতাম সর্বোচ্চ ২০-৫০ টাকা করে, সেই পান এখন কিনতে হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা দরে। তিনি আরও বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পানের সরবরাহ থাকলেও পানের দামে কমতি নেই। হাটের খিলি পান বিক্রেতা সিপাহী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ থেকে (৬৪টি) পানের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে খিলি পান ৫ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না। যা আগে আমরা ৩-৪ টাকায় বিক্রি করেছি। তিনি জানান, পানের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ায় খিলি পান বিক্রি অনেক কমে গেছে।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply