জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

ডাক্তার দেখাতে একদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে

0


আসিফ হাসান কাজল:

সকাল ১০-১২.৩০ আড়াই ঘন্টা। এ সময়ে একটি সিনে কমপ্লেক্স এ দিব্যি হলিউডের একটি সিনেমা দেখে ফেলা যায়। পপকর্ন হাতে প্রমিকার সাথে দুষ্টু-মিষ্টি কথা বলা যায়। আমি তা বলিনি,এই আড়াই ঘন্টা জুড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোন সিনেমা হলের আধার রুমেও আমি থাকিনি! আমি গিয়েছিলাম অসুস্থ শরীরে চিকিৎসা সেবা নিতে। শালিখা উপজেলার আড়পাড়ার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

সাধারনের লম্বা সারিতে আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম, বয়সে যুবক তাই কষ্টবোধ করিনি। হইতো করতাম যদি আমার সামনে আশি বছর বয়সী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আমারই মত পিঁপড়ারর সারিতে দাঁড়িয়ে না থাকতো! ক্রন্দনে চিৎকার করা শিশুটাকে নিয়ে মায়ের ছটফটানি যদি আমি না দেখতাম! আমি শীর্ণ দেহ মন নিয়ে অসুস্থতাজনিত কারনে হইতো বা মূর্ছা যেতাম।
লম্বা এ অসুস্থ মানব-মানবী এর সারি যেন কচ্ছপ এর গতিকেও হার মানায়! শামুকের চলার গতি ঘণ্টায় কত হবে? কি জানি! অনেক হিসাব করতে হবে হইতো!

আমি কষ্ট পেয়েছি! যখন সরকারী ডাক্তারবাবুর দুপাশে দুইটা চেয়ার জুড়েই ঔষধশিল্প এর বাজারজাত করা মানুষ দেখেছি! অসুখে কাতর বৃদ্ধার যখন লাঠিতে ভর দেবার শক্তিও হারিয়ে চলেছে! তখন পাশে থাকা সেই চেয়ারে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারের সাথে গল্পগুজব চলছিল! কিছু সময় আইনকানুন ভাল লাগে না মানতে। চাঁপা আর্তনাদধ্বনি কষ্টের ভাষা হারিয়ে দূর্বল এর দল ও সাহসী হয়। সকাল ১০ টা থেকে ১২.৩০। কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যস্থান আমি চিকিৎসক এর সামনে! আমার দেহের সমস্যাবলী বলতে এই তো সময়,১ মিনিট ও হয়নি! আমার হাতে রোমান হরফে লেখা প্রেসকিপশন যে ভাষায় এটা লেখা আমি জানি পাশের ফার্মেসী তে থাকা উজ্জল মামা ঠিকই পড়ে ফেলতে পারবে! কি অদ্ভুত! ইনাদের লেখা তারাই পড়তে পারেন ,কিন্তু আমি অনার্স পাশ করেও এখনো দাঁত ভেঙে ফেলি! নিজেকে তখন মূর্খো মনে হয়, নির্বোধ মনে হয়, লজ্জা লাগে।

তো যাই,হোক ১২.৩০ এ আমি হসপিটালের গেট থেকে বের হতে চলেছি। তখনো লম্বা সারি! যারা সস্তায় স্বাস্থ সেবা নিতে এসেছে। তখনো চেয়ার ফাঁকা হয়নি! এখন তো রাত ১২.১০! সে সময় পেরিয়ে আরও ১২ ঘণ্টা হতে চলেছে! কি জানি সে চেয়ার ফাঁকা হয়েছে কিনা!!!
আমি নিশ্চিন্ত যদি ডাক্তার বাবু এখনো থেকে থাকেন তবে তারাও আছে… এখনো সে চেয়ার ফাঁকা হয়নি!
প্রশ্নবোধক মনে উত্তর টাও খুব জানা। জানিতো এই চেয়ার রুগীদের জন্যই, বৃদ্ধাদের জন্যই,শিশুকোলে থাকা মায়েদের জন্যই।
কিন্তু ওদের কে বোঝাবে কে?????

[[শালিখার, কাজল ইসলামের এই অভিজ্ঞতা আমাকে লিখে পাঠিয়েছে। আমি শুধু আমার লেখনশৈলী সংযুক্ত করে উপস্থাপন করলাম। ]]

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply