জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

ঝিনাইদহে কলেজ ছাত্র তানভিরের সখের ছাদ বাগানে ১৫৪ প্রকার গাছ

0


আব্দুল্লাহ আল মাসুদ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

সবুজের ছোঁয়া পেতে কার না মন চায়। কিন্তু ইট পাথর ও নগরের যান্ত্রিক জীবনে সবুজ প্রকৃতির দেখা পাওয়া যেনো খুবই কঠিন, সেখানে গাছপালা তো দূরের কথা, আলো বাতাসেরও যেন বড় অভাব দেখা দেয়। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলে শহর জীবনের ছোট বাসা-বাড়িতেও যে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। আর সেটাই বাস্তবে প্রমাণ করলেন কলেজ ছাত্র তানভির আহম্মেদ।

নিজের ইচ্ছা শক্তি আর বৃক্ষপ্রেমের তাগিদে সে আরাপ পুর পশ্চিম পাড়ায় তার এক তলা বাড়ির ১২০০ স্কয়ার ফুটের ছাদে গড়ে তুলেছেন এক সবুজের সমারোহ। সেখানে পায়ের নিচে নরম ঘাসের স্পর্শ না পেলেও হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় বৃক্ষরাজির সবুজ পাতা ও বিভিন্ন ধরণের ফলমুল। তানভিরের ছোট কাল থেকেই গাছের প্রতি ভালবাসা রয়েছে । সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় সে ছাদবাগান করার কথা ভাবে। এক সময় তার পোষা পাইরা বিক্রি করে ছাদে বিভিন্ন প্রকার গাছ লাগাই। সেই গাছের চারা মেলাই বিক্রি করে আরো বেশি গাছ কেনে। এভাবে দিনে দিনে তার বাগানের গাছের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন একটি সমন্বিত ফল, ফুল, ঔষুদী ও শাক-সবজির বাগানে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে তার বাগানে ১৫৪ প্রকার গাছ রয়েছে।

এর মধ্যে ৬৫ প্রকার ফলের গাছ রয়েছে, মাল্টা থাই, মাল্টা বারি, ব্যারাকাটা কমলা, ভ্যারাকাটা মারটা, ভ্রারাকাটা পেয়ারা, ড্রাগন ভিয়েতনামী সাদা ও লাল, বন্টাকস্টার আম, পেঁপে, স্ট্রবেরীসহ বিভিন্ন গাছ। ৫০ প্রকার ফুলের গাছের মধ্যে রয়েছে, গোলাপ, গন্ধরাজ, লাল শাপলা, পদ্ম, নাইট কুইন, জারবেরা, এ্যাজেলীয়া, রঙ্গন চায়না,রজনী গন্ধা, গ্রীন প্লাই, ব্লেডিং হাট । ২৪ রকম শোভা বর্ধনকারীর মধ্যে রয়েছে, নলিনা পাম, মন্দিরা ঝাউ, ট্রিসু কার্পেট, দেশী বট, অর্কিড, সবুজ ইনডোর ঘাস,চায়না বাঁশ ইত্যাদি। ১৫ রকম ঔষুধী গাছের মধ্যে রয়েছে, তুলসী, কারমেঘ, অ্যালোভেরা,হরিকতি, বহেরা, তানকুলি, আমরকি ইত্যাদি।

তানভির বলেন, তিনি ঝিনাইদহ কেসি কলেজের অনার্স দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়া শুনার ফাঁকে অবসরে অযথা সময় নষ্ট না করে তিনি বাগানে গাছের পরিচর্যা করে থাকেন। তার বাগানের গাছে কনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন না। জৈব সারসহ ফেলে দেওয়া চা পাতা, তরকারির ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে নিজের তৈরি করা সার ব্যবহার করেন বাগানের গাছে।

প্রতিবেশী আব্দুল হান্নান বলেন, তানভীরের ছাদ বাগানে দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে সে জন্য ওর বাগান থেকে কিছু গাছ কিনে ছাদে লাগিয়েছি। এখন আমিও বড়ো পরিসরে ছাদ বাগান করার কথা ভাবছি। ছাদ বাগান দেখতে আসা আমিরুল বলেন, সে সময় পেলে বিকালে এ বাগানে ঘুরতে আসি বিভিন্ন গাছের নাম জানতে পারি। এছাড়া পরিবেশ টা অনেক সুন্দর সে জন্যই আশা হয় এখানে।

তানভির আহম্মেদ আরো বলেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর খানিকটা চেষ্টা থাকলে আপনিও গড়ে তুলতে পারেন চমৎকার একটি বাগান। যখন ফুল-ফলে আপনার বাগান ভরে উঠবে, তখন আপনার মনও স্বর্গীয় প্রশান্তিতে ভরে যাবে।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply