জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

জমেনি ঈদ বাজার; তালতলীর ব্যবসায়ীরা হতাশ!

0


মোঃ হাইরাজ
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের এই খুশিকে ভাগাভাগি করে নিতে সকলের মাঝেই যেন ভিন্ন এক আমেজ। নতুন কাপড় ছাড়া যেন ঈদের আনন্দই মাটি। হোক খুব দামি কিংবা স্বল্প দামি। আর এই পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জমকালো পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। তবে এখনো জমে উঠেনি ঈদের বাজার।

এবার ঈদুল ফিতরে ব্যবসায় অনেক মন্দা চলছে বলে দাবি করলেন বরগুনার তালতলীর কয়েক জন ব্যবসায়ী। সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটায় শহরের বিপণী বিতানগুলো এখনো সরগরম নেই বললেই চলে। কিছু ক্রেতা পাওয়া গেলেও বিত্তবান পরিবার ছাড়া সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকাংশেই কম। তবে এখনকার বেশিরভাগ ক্রেতা মৎস্য জীবি।

ভরা মৌসুমে সাগর-নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় ঈদ আনন্দ নেই প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবারে। একদিকে পরিবার-পরিজনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, অন্যদিকে ঈদের বাড়তি খরচ। এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যোগাতেই হিমশিম খাচ্ছে উপকূলের কয়েক হাজার পরিবারের।

জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও সাগর-নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না ইলিশ। জাল আর নৌকা নিয়ে নদী ও সাগরে দিনের পর দিন ইলিশ পাওয়ার আশায় ঘুরে বেড়ালেও পাওয়া যাচ্ছে না ইলিশের দেখা। উপজেলার নিশানবাড়িয়া জেলে পল্লীতে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সকলের মুখেই হতাশার চিহ্ন। বেকার সময় কাটাচ্ছেন এখানকার জেলেরা। কেউ হয়তো সময় কাটাচ্ছেন ট্রলারে বসে থেকে অথবা জাল সেলাই করে।

জেলে মোস্তফা জানান কয়েক মাসে মাছ ধরতে গিয়া আড়তদার ও দোকানদাররসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা দেনা হইছি। এর মধ্যে আবার ঈদের চাপ, আমাগো ঈদ আনন্দ নাই। খোট্টার চরের জেলে দেলোয়ার পহলান বলেন, ‘নদীতে সারা দিন জাল বাইয়াও ২টা ইলিশের দ্যাখা মেলে না। তাই ঈদের বাজারতো দূরের কথা পোলা-মাইয়া লইয়া ভাত খাওয়া খুব কষ্ট হয়। আল্লাহ আমাগো কপালে ঈদ আনন্দ দেয় নাই।’ আরেক জেলে কাসেম বলেন, ‘পোলা-মাইয়া (ছেলেমেয়ে) লইয়া খুব কষ্টে আছি। সবাই জালায় (চায়) নতুন জামা কাপড়’ জেলে পরিবারের মিনারা বেগম বলেন, ‘ছেলেরে কই, বাবা এডা আনিস, ওডা আনিস, হ্যাঁ ছেলে মোর মোহের (মুখের) দিকে চাইয়া থাহে (থাকে) কিছু কয় না। আনবে কি দিয়া নদীতে মাছ নাই, টেহা (টাকা) নাই।’

এ ব্যাপারে মৎস আরৎদার শহিদুল হক বেপারী জানান, ভরা মৌসুমে সাগর নদীতে মাছ না থাকায় জেলে পরিবারে খুবই দুর্দিন যাচ্ছে। তারা খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে না, আবার ঈদ করবে কী ভাবে।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply