জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

চায়ের পেয়ালায় ফিরোজ টি স্টল

0


আসিফ হাসান কাজল:

আঁধারে ঘেরা ছোট্ট জরাজীর্ণ জংধরা টিনের ২০ বছরের পুরাতন দোকান। দোকানের পেছনের দিকে জেলার এক প্রয়াত নেতার ছবি কাঁঠের ফ্রেমে বন্দী! খুব ভাল করে দেখলে বোঝা যায় ছবিটি কোন এক সময়ের পোস্টার থেকে কাঁটা! কিন্তু এই ছবি টানানোর কারন স্বয়ং দোকানীর ও অজানা। প্রশ্নে উত্তর এমনই মেলে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির প্রতি এক স্মৃতিচারণা।

দোকানের সামনে যুবক কিশোর বৃদ্ধ বয়সী মানুষের ভিড় যেন সকাল সন্ধ্যা অবধি লেগেই রয়েছে। আসা যাওয়ার এই দলে হয়তোবা তরুণদের সংখ্যাটিই বেশি। চায়ের কাপের পেয়ালা আর চা চামচের শব্দে তৈরী হচ্ছে চা। নিজ জেলার মানুষই শুধু চা এর খরিদ্দার নয়, দূর দূরান্ত থেকেও এখানে মানুষ চা পান করতে আসে এখানে!

এটি মাগুরা জেলার ইছাখাদা বাজারে অবস্থিত বিখ্যাত “ফিরোজের চা এর দোকান”।
আজ ৩ কণ্যার পিতা শুধুই একজন চা বিক্রেতা নয়, তিনি এই ব্যবসায় এক সফল ও আর্থিক স্বাবলম্বী চা ব্যবসায়ী।

শুরুটা সহজ ছিলনা, দীর্ঘ ৩ বছর চায়ের কাপ ধোয়ামোছা করেছেন, ব্যবসার শুরুতেই পিতাকে হারিয়েছেন। তবু থামেনি তার এ পথ চলা এভাবেই নিজের সম্পর্কে বলছিলেন ফরোজ হোসেন। ফিরোজ হোসেন তার ৩৫ বছর বয়সী এই জীবনের চা বিক্রি করে চলেছেন দীর্ঘ ২২ বছর!

দোকানে থাকা একাধিক চায়ের খরিদ্দারকে মাগুরা শহরে এত দোকান থাকতে কেন এখানে আসা প্রশ্ন করা হলে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আবির হোসেন(২২) জানালেন মাগুরায় যদি কোন বন্ধু ঢাকা থেকে মাগুরায় বেড়াতে আসে তবে এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা যে এই টি স্টলে চা খেতে আসেনি! আরও বলেন ফিরোজ ভাইয়ের চায়ের কাপেই যেন মাগুরার স্বাদ লেগে থাকে!

ফিরোজ হোসেন তার দোকান সম্পর্কে বলেন, বিভিন্ন উৎসবে এখানে যুবক থেকে যুবতী, মাঝবয়সী বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে সবাই চা খেতে আসে। কি এর রহস্য এই প্রশ্নে বলেন, এটা যারা পান করেন তারাই ভাল বুঝেন। আমি কোন বিশেষত্ব বুঝিনা।

আগামী দিনের স্বপ্ন কি এমন প্রশ্নেও জানান সাদামাটা উত্তর, আমার রুটি,রোজগার, কি স্বপ্ন কি আগামী আমি এই নিয়ে ছিলাম, এই নিয়েই আছি ও এই চা বিক্রির ব্যবসা নিয়েই থাকতে চাই।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply