জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

ওসির বিরুদ্ধে মামলা এবং অতঃপর..

0


আসিফ হাসান কাজল:

২০ হাজার ইয়াবা বড়ি সহ তিন মাদক ব্যাবসায়ীকে আটকের পর মাত্র ২২০টি ইয়াবার মামলা প্রদান করার অভিযগে মাগুরা শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২৫ শে জুলাই মাগুরা জেলা জজ আদালতের দূর্ণীতি দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শালিখা থানার সাবলাট গ্রামের মোহাব্বত হোসেন মাদকদ্রব্য আত্নসাৎ করার অভিযোগে ওসি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। এই ঘটনায় জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারন খুঁজতে অনুসন্ধানে ওসি রবিউল ইসলাম সহ মামলার বাদী মোহাব্বত হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

ঘটনার সময়- ওসি রবিউল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী গত ৩১ শে মার্চ রাত ২.৩০ মিনিটে শালিখা থানা পুলিশের ৩ জন সদস্য যথাক্রমে এস আই ইদ্রিস, এস আই সাবলাট এলাকার দুই তলা বাড়িতে বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ কক্সবাজার এলাকার ৩ জন মাদক ব্যাবসায়ী অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়ার পরেই পুলিশের উপপরিদর্শক ইদ্রিস হোসেন, উপপরিদর্শক নাসির ও এএসআই রাসেল রাত ৩ টা নাগাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জন সহ ইয়াবা বড়ি ভাঙ্গা অবস্থা ছাড়াও আরও ১৬০ টি বড়ি জব্দ করেন বলে বর্তমান টাঙ্গাইল জেলা পুলিশে কর্মরত এস আই ইদ্রিস জানান।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নাসির বর্তমানে মাগুরা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত রয়েছেন, তার সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, ঘটনার সময় ৫ জন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়, পরে তথ্যদাতা মোহাব্বত হোসেন সহ রাসেল নামের একজন দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়ায় তদন্ত পরবর্তী চার্জশীটে ৭ জনকে উপযুক্ত প্রমানের সাথে সঙ্গতি রেখে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শালিখা থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ শে মার্চ দিবাগত রাতের পর সকালেই শালিখা সার্কেল এএসপি আবীর সিদ্দিকী শুভ ও পুলিশ সুপার হেডকোয়ার্টারস শালিখা থানায় আটক ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এই ব্যাপারে এ এস পি শালিখা সার্কেল আবীর সিদ্দিকী শুভ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাগুরা জেলা পুলিশের ঊর্ধতন সকল পুলিশ কর্তাব্যক্তিরা ঘটনার ঐ দিন বিকেল বেলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাগুরা পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে আবীর সিদ্দিকী শুভ জানায়।

এদিকে ওসি রবিউল ইসলামের পুলিশের চাকরী জীবনে পূর্বে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন ২৫ বছরের পুলিশে চাকরী জীবনে তার বিরুদ্ধে নথিভুক্ত কোন অভিযোগ নেই বলে জানা যায়। এছাড়াও জানা যায় শালিখা থানায় তার আমলে সর্বাধিক ১০৯ টি মাদক মামলা হয়েছে যা উক্ত থানার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এছাড়াও রবিউল ইসলাম বলেন, মোহাব্বত হোসেন এর বিরুদ্ধে সর্বোমোট ৮ টি মামলা রয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহাব্বত হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ও তার ব্যক্তিজীবনের খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এই মোহাব্বত হোসেন দীর্ঘ ৮ বছর ট্রাক চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও গত ২ বছর কোন ধরনের পেশার সাথেই তার কোন সম্পৃত্ততা নেই! তাহলে কিভাবে জীবন ধারন করছেন এই প্রশ্নে মোহাব্বত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২ বছর শারীরিক অসুস্থ থাকায় অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন। তদন্ত কর্মকর্তা, ঘটনাস্থলে থাকা এস আই ইদ্রিস, এ এস আই রাসেল কে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে মামলার কারন কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে জানান, আমি নিজে এস আই ইদ্রিস কে গোপন তথ্য দিয়েছিলাম এরপর আমাকেই তারা মামলার আসামী হিসাবে সাব্যস্ত করায় ও ক্রমাগত টাকা দাবী করার ফলেই মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

ঐ রাতে আপনি তথ্য দিয়েছেন আপনি কি দেখেছিলেন যে ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি আটক ব্যক্তিদের কাছে ছিল? বা পুলিশ জব্দ করার সময় কি আপনি তাদের সাথে ছিলেন মোহাব্বত হোসেন কে প্রশ্ন করা হলে বলেন যে না আমি দেখিনি তবে এই পরিমান হওয়ার কথা বলেই আমি শুনেছিলাম। চাক্ষুস না দেখে আপনি কিভাবে একজন ওসির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন এই কথা বলতেই তিনি উপযুক্ত কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।

এদিকে শালিখা থানায় একাধিক ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ওসি রবিউলের সাথে মোহাব্বত হোসেন এর গোপন কোন সম্পর্ক ছিল কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে গেলে নানা মানুষ বিভিন্ন ধরনের অভিমত প্রকাশ করলেও কোন ধরনের তথ্য প্রমান প্রদর্শন করতে পারেননি।

মোহাব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ টি মামলার মধ্যে প্রথম মামলা হয়েছিল ২০১৩ সালে। অর্থাৎ এই মামলা সমূহ শুধুমাত্র এই ওসির আমলে হয়ে থাকলেও ব্যক্তি বিদ্বেষ প্রমান হতো কিন্তু অনুসন্ধানে এই ধরনের অভিযোগ থাকলেও তা যুক্তিহীন। এছাড়াও এই মামলার সাথে স্থানীয় কোন রাজনৈতিক সংঘাতের সাদৃশ্যও পাওয়া যায়নাই।

পরে ওসি রবিউল ইসলামের সাথে মামলা ও অভিযোগের ব্যাপারে কথা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সকল আনিত অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলেও জানান।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply