জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

উচ্চ শিক্ষা অর্জনে কোন প্রতিকূলতাই দমাতে পারেনি ঝালকাঠির অসীমকে

0


মোঃ আতিকুর রহমান:

মেধা, দৃঢ় প্রত্যয়, ইচ্চা-আকাঙ্খা ও চেষ্টা থাকলে কোন প্রতিকূলতাই দমাতে পারে না এমনটাই প্রমাণ করলো ঝালকাঠির অসীম চন্দ্র শীল। অভাব-অনটনের সংসার পরিচালনা করে গত ২ এপ্রিল প্রকাশিত এলএলবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। পিতা অমূল্য চন্দ্র শীল পোস্ট অফিস রোডের আখড়া বাড়ির সামনে স্টার সেলুনের সত্তাধিকারী। মাতা বেলা চন্দ্র শীল গৃহিনী।

পরিবার ও অসীম শীলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঝালকাঠি শহরের পোস্ট অফিস রোডের নরসুন্দর অমূল্য চন্দ্র শীলের ঔরশে ১৯৮৯ সালের ২৫ ডিসেম্বরে জন্ম তার। ৪ ভাই বোনের মধ্যে অসীম তৃতীয়। শিক্ষাজীবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়াকালীন পিতার একার উপার্জনে সংসার চালানো কষ্ট দেখে তার ব্যবসার কাজে সহায়তা করতে শুরু করেন। ঝালকাঠি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট হতে ২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ৩.৯১ জিপিএ পেয়ে এইচএসসিতে ঝালকাঠি সরকারী কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০৭ সালে ২.৪০ পেয়ে এইচএসসি এবং ২০১১ সালে ২য় বিভাগে বি.কম উত্তীর্ণ হন। বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে ২০১৩ সালে ২য় বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে পিতাকে সাহায্য করা এক মূহুর্তের জন্য থামাননি তিনি। এরপরই ভর্তি হন বরিশাল ল’ কলেজে। সেখানে এলএলবি পড়াশুনাকালে গত বছরের ১০ জানুয়ারী (১০-০১-২০১৭ইং) পিতাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়েও ব্যবসার পুরো হাল ধরেন অসীম। পিতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় সংসার চালানো, গৃহিনী মা’কে দেখাশুনা করা, বোনদের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়ার দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করেন তিনি। শোক কাটাতে না কাটাতেই সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার মধ্যেই এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সেই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সদ্য প্রকাশিত (৪ এপ্রিল) এলএলবি পরীক্ষার ফলাফলে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

অসীম চন্দ্র শীল জানান, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে একদিকে পিতার কাজে সহযোগিতা করা ও ব্যবসার হাল ধরে পড়াশুনা করতে হয়েছে। যার কারনে পরীক্ষার ফলাফল তেমন একটা সন্তোষজনক হয়নি। বাবার ইচ্ছা ছিলো আমাকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করিয়ে ভালো একটা চাকরী করাবে। আমার উচ্চ শিক্ষার সব পর্যায়েরই একটা মাত্রা অতিক্রম করলাম কিন্তু বাবা তা দেখতে পেলনা। তিনি বেঁচে থাকলে আমার এলএলবি’র ফলাফল শুনে খুব খুশি হতেন।

অসীম আরো জানান, ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছি। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রসেসার্ভেয়ার পদের পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহণ করেছিলাম। অসীম চন্দ্র শীল’র মা বেলা চন্দ্র শীল জানান, ছেলেটা শান্ত ও ভদ্র। ও কখনোই আমাদের অবাধ্য হওয়া তো দূরের কথা চোখের দিকে তাকিয়ে কোন কথাও বলেনি। ওর (অসীমের) বাবা তো ছেলের কোন কূল-কিনারা দেখে যেতে পারেনি। আমি এখন আশায় আছি ছেলেটা ভালো একটা চাকরী পাবে তা দেখে যাবার।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply