জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সত্য কে দমিয়ে রাখতে পারবে না: এম পি মিজান

0


খুলনা ব্যুরো অফিস:

আলহাজ্ব মিজানুর রহমান এমপি খুলনা দুই আসনের সরকারি দলের সাংসদ ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, খুলনার গণমানুষের বন্ধু। সম্প্রতি মিজানুর রহমান মিজানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে একটি কুচক্রি মহল, দাবি করেছেন আ’লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। ইতিমধ্যে, এমপি মিজানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ নগর আ’লীগের বিভিন্ন নের্তৃবৃন্দ মানববন্ধন করেছে।

এদিকে এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিতায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি অজ্ঞাতনামা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় খুলনা-২ আসনে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সরকারি অফিসের ঠিকাদারি কাজে পরিবারের সদস্যদের নামে কাজ নিয়ে নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ ও মাদকের ব্যবসা করে শত কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে তার অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

সোমবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ।

এ সম্পর্কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানতে গেলে খুলনা-২ এর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সুস্পষ্ট জবাব দেন।

তিনি বলেন, “আমি তাদেরকে (দুদক) বলেছি, এ ধরনের বিষয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আপনার যাচাই-বাছাই করেন, অনুসন্ধান করুন।

মিজান বলেন, আমি একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমার বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা নিয়ে কিছু কথা জনগনের জানা প্রয়জন বলে আমি মনে করি।এর পরে এমপি মিজান একে একে ধারাবাহিকভাবে তার সম্পর্কে প্রতিটা বিষয় সুস্পষ্ট ভাবে সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন।

খুলনা শহরে ১০ কোটি টাকার আলিশান বাড়িতে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, আমি যে বাড়িতে বসবাস করি সেটি ১৯৮০ দশকে আমার পিতা মানি মিয়া এবং চাচা শামসুদ্দিন হাউজ বিল্ডিং এর লোন নিয়ে তৈরি করেছেন ।আমাদের এই বাড়িটি একবার নিলামের উপক্রম হয়েছিলো। বাড়িটি সম্পুর্ন আমার বাবা আর চাচা শামসুদ্দিনের নামে।আমাদের এই বাড়িতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকা কালিন একাধিক বার বেড়াতে এসেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দ আওয়ামী লীগের দুঃসময় এই বাড়িতে থেকে দলের কাজ করেছেন। যেটি খুলনার সাধারন মানুষ সহ সকলেই জানে।

আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে আপনার ছেলে মেয়ে বিদেশে পড়াশুনা করে এবং তাদের নামে শত শত বিঘা জমি আছে এর সত্যতা কতটুকু?

-আমার মেয়ে নাবিলা রহমান খুলনা কমার্স কলেজে অনার্স এবং মাস্টার্স করেছে, আমার ছেলে নাবিদ হাসান খুলনা সিটি কলেজ থেকে ইন্টার পাশ করে এখন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। তারা এখনো রিক্সায় যাতায়াত করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে যা খুলনার সকলেই জানে। আর তাদের নামে ১ শতক জমি খুলনা কেন বাংলাদেশের কোথাও নেই।

আপনার নামে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারি কাজ নিজের পরিবারের সদস্যের নামে নিয়ে কাজ না করে টাকা আত্নসাৎ করেছেন এই অভিযোগ এসেছে?

-বাস্তবতা হলো আমার ছোট ভাই মোস্তাক ১৯৯০ দশক থেকে লন্ডনে বসবাস করেন এবং আমার সেজো ভাই মাসুদ ৯০ এর দশক থেকে জাপানে বসবাস করেন তিনি জাপান আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামীলীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জাপানে গেলে মাসুদের সাথে থেকেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে গেলে নাগরিক সংবর্ধনায় মাসুদ সভাপতিত্ব করে। আর মেজো ভাই জাহিদ পারিবারিক ব্যবসা ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছেন ৮০ দশক থেকে কিন্তু মজার ব্যাপার হলো অভিযোগে বলা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের কাজ প্রভাব খাটিয়ে কাজ নিয়েছি কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার হয় লটারির মাধ্যমে সেখানে কোনো প্রভাব খাটানোর আমার কোন সুযোগ নাই আর আমি এমপি হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশনের একটি কাজ ও পাইনি মুলত আমি সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদরি ব্যবসা করি না। তবে কাজ কিভাবে পাবো?

অপনার নামে বলা হয়েছে গুলশান বনানি তে একাধিক ফ্লাট রয়েছে এর সত্যতা কতটুকুন এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন?

– দেখেন গুলশান বনানী কেন ঢাকা শহরের কোথাও আমার নামে বা আমার পরিবারের কারো নামে একটি ফ্লাট ও নাই।উল্টা আমার ঢাকায় কোন ব্যাক্তিগত ফ্লাট ও প্লট না থাকায় আমি আমার সংসদ সদস্য কোটায় রাজউকে একটি প্লটের জন্য আবেদন করেছি।

আপনার নাকি সিংগাপুর বাড়ি রয়েছে?
– আমি আমার এই জীবনে একবারই মাত্র সিংগাপুর গিয়েছি সেটি ২০০০ সালে তাহলে সিঙ্গাপুরে আমার বাড়ি কি ভুতে বানিয়েছে?

আপনার সাথে নাকি মাদকের সম্পৃক্ততা আছে এর সত্যতা কতটুকুন?

– মাদকের যে বিষয়টি আমাকে নিয়ে বলা হয়েছে এটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। আমি বরবরই মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। মাদক বিরোধী প্রতিটি মিটিং সহ আইন শৃঙ্খলার মাসিক মিটিং এ মাদক এর বিরুদ্ধে কঠোর ভুমিকা রেখেছি।

একটি জাতীয় দৈনিকে বলা হয়েছে খুলনার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিস বিশ্বাসকে এমপি মিজান মেয়র বানিয়েছে?

-এটা একটি ভ্রান্ত ধারনা, আনিস বিশ্বাস ছিলো প্যানেল মেয়র-১ মেয়র বরখাস্ত হলে মেয়রের দায়িত্ব অটোমেটিকালি আইন অনুসারে পাবে। আর মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে এখানে আমার কিসের সম্পৃক্ততা?

ঐ জাতীয় দৈনিকে আরো লিখেছে বিথার হত্যা মামলায় আপনি নাকি চার্জ শিট ভুক্ত আসামী?
-এটা সম্পুর্ন রুপে মিথ্যা ও বানোয়াট। বিথার হত্যা মামলার চার্জশীটে আমার কোনো নাম নেই।

তিনি আরো বলেন, দুদকে যে কেউ যে কারো নামে অভিযোগ করতে পারে একজন নাম ঠিককানাহিন ব্যক্তি দুদকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন দুদক সেটি অনুসন্ধান করছেন তাতে আমাদের কোন দুঃখ নাই কিন্তু অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলো না তার আগেই হলুদ সাংবাদিকরা কিসের বিনিময় মিথ্যা নিউজ করছেন সেটি আমার বোধগাম্য নয়।

সাম্প্রতিক আপনার বোন সুলতানা রহমান শিল্পীকে পিপি বানানোর পিছনে আপনার হাত রয়েছে বললে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন।

আমার বোন শিল্পী ৮০ দশকের শেষে এবং ৯০ দশকের পুরোটা সময় ছাত্রলীগ করেছে, ও ১৯৯২ তে বয়রা মহিলা কলেজে নির্বাচন করেছে,এছাড়া আইনজীবী সমিতিতে দীর্ঘ ১০ বছর আওয়ামী আইনজীবীর মহিলা সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছে, গত তিন বছর ধরে এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে কাজ করে আসছে।বর্তমানে আমার বোন তার যোগ্যতা দিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগ এর সদস্য এবং মহিলা আওয়ামীলীগ এর ১ নং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসাবে দলের একজন সৎ ও যোগ্য নেত্রী হিসেবে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ও (শিল্পি) এত দিনে যে অবস্থানে এসেছে, তা ওর যোগ্যতাবলে এসেছে।এখানে আমার প্রভাব খাটানোর কোন সুযোগ নেই।এটাও আমার ও আমার পরিবারের উপর কুচক্রী মহলের একটি ষড়যন্ত্রের একটি অংশ বলে আমি মনে করি।

সর্বশেষ নির্বাচনী বছরে এ ধরনের অভিযোগ মনোনয়ন পাওয়ায় প্রভাব ফেলবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, “আমি মনে করি অতি সত্বর সমস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে কোনো দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অর্জন এ ধরনের কোনো বিষয়ের সাথে আমি কখনোই জড়িত ছিলাম না এবং আগামীতেও সম্পৃক্ত হব না।আমি সকাল দুপুর রাত দেখিনা সারাদিন খুলনার মানুষের জন্য কাজ করে যাই। খুলনা শহরের এমন কোন ব্যক্তি নেই যে বলতে পারবেন আমার কাছে কোন কাজে নিয়ে এসে সহযোগিতা পান নি। আমার বিরুদ্ধে এ সকল ষড়যন্ত্র করে সত্য কে কখোনো দামিয়ে রাখা যাবে না। আজ অথবা কাল এসকল ষড়যন্ত্রের মুখোষের দার উন্মোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply