জীবন দর্শন ভ্রমন স্বাস্থ্য ইতিহাস অনুপ্রেরণা চাকরি জানা-অজানা বিশেষ প্রতিবেদন সাক্ষাৎকার

অবৈধ গর্ভপাত: কারণ ও প্রতিকার

0


মাইমুনা রহমান মৌ
২য় সেমিস্টার, তৃতীয় বর্ষ
ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়:

‘মাতৃত্ব’ একটা নারীর জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কিন্তু কখনো কখনো এই আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলো রূপ নেয় ভয়ঙ্কর অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে। মাগুড়া জেলার একজন রাজনৈতিক নেতা এক স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্তসত্ত্বা হয়ে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটান। অতঃপর ঐ শিক্ষিকা পুলিশের শরানপন্ন হন। এই ঘটনা এখন পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন ই দেখা যায়।

ধর্ষনের ব্যাপারগুলো বহুল আলোচিত হলেও বর্তমানে গর্ভপাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টা থেকে যাচ্ছে দৃষ্টির অগোচরেই। এ নিয়ে মামলাও খুব বেশি হয় না। গর্ভপাত বিষয়টা মাতৃত্বজনিত হলেও অবৈধ গর্ভপাত একটি গুরুতর অপরাধ। দন্ডবিধি -১৮৬০ এর ৩১২-৩১৬ অনুযায়ী গর্ভপাত একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধুমাত্র যে ধর্ষনের শিকার হওয়া গর্ভবতী মায়েদের জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হচ্ছে, ব্যপারটি এমন না। অবৈধ গর্ভপাতের কারণ নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা বর্তমানে ভ্রূণ হত্যার ৪ টি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত বয়সে বিয়ে, অসচেতন অভিভাবক ও কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততা, স্বামী ও স্ত্রীর সংসারে অশান্তি ও ঝগড়া-বিবাদ , অনিরাপদ অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক।

গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে যদি গর্ভপাত করানো হয়, তাহলে সেটা সাধারণত ঝুঁকিহীন হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে Roe vs. Wade মামলার মাধ্যমে গর্ভপাতকে বৈধ করা হয়, শুধুমাত্র মাতৃত্বজনিত ক্ষেত্রে। কিন্তু বর্তমানেও চিলি, নিকারাগুয়া, এল সালভাদোর, মালটা, ভাটিকান, ডমিনিকান রিপাবলিক-৬টি দেশে গর্ভপাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১২ সপ্তাহের মধ্যে বৈধভাবে গর্ভপাত করানোর পদ্ধতিকে এম. আর অথবা মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন বলা হয়। কিন্তু অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ১২ সপ্তাহের অধিক গর্ভবতী মায়েদের এম. আর এর নামে অবৈধ গর্ভপাত করানো হয়। তারা গর্ভপাতকে ব্যবহার করেন টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে। ইন্ভেস্টিগেশন ৩৬০ যমুনা টেলিভিশন এর প্রতিবেদন এ লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম সহ আরো অনেক ব্যবসায়িক হাসপাতাল কে তুলে ধরেন। ১২ সপ্তাহের পর গর্ভপাত ঘটানো হলে, গর্ভবতী মায়েরা প্রচণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। অবৈধ গর্ভপাতের ফলে পঞ্চাশ শতাংশ মায়েরা মারা যান এবং এছাড়াও অনেকে ভুগছেন নানা রকম রোগে। এবং এম.আর অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে করানো উচিত।

অসচেতনতা এর জন্য অনেকেই মনে করেন গর্ভপাত পুরোপুরি অবৈধ তাই তারা অভিজ্ঞ ডাক্তার অথবা প্রেকটিশনার এর কাছে না যেয়ে দালালের শরণাপন্ন হন। বাংলাদেশে ৩ টি শর্তের উপর গর্ভপাত বৈধ- গর্ভপাত শুধুমাত্র মায়ের জীবন বাঁচাতে করার নির্দেশ আছে, এম.আর গর্ভধারণ এর ১২ সপ্তাহের মধ্যে করতে হবে, গর্ভপাতের জন্য অবশ্যই মায়ের অনুমতি প্রয়োজন। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট বলছে বছরে পাঁচ কোটি ষাট লাখ নারীর গর্ভপাত হচ্ছে যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। গুটম্যাকার ইন্সটিটিউট এর তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে সরকারি ভাবে এম.আর এর সেবা দেয়া হয় মাত্র ৫৩%, যেটা পূর্বের তুলনায় কমেছে। সরকারের এই ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তাহলে অবৈধ গর্ভপাত এর হার আরো কমবে বলে আশা রাখা যায়।

ফেইসবুক মন্তব্য

Leave A Reply